
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজ্যের দীর্ঘদিন আটকে থাকা পুরসভাগুলিতে নির্বাচন করানোর প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার পর কলকাতা ও হাওড়া-সহ মোট ৭টি পুরসভায় নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। পূর্বে নভেম্বরের ২৭ বা ২৮ তারিখের দিকে ভোটগ্রহণের রাজনৈতিক ঘোষণা ও প্রাথমিক চর্চা থাকলেও, নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন সূচি অনুযায়ী নির্বাচন পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসে হতে পারে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে আসন সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কলকাতা পুরনিগমে নতুন সীমানা পুনর্গঠনের ফলে ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯টিতে। একইভাবে হাওড়া পুরনিগমেও পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন করে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৮টি করা হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া ছাড়াও রাজ্য নির্বাচন কমিশন যে অন্য পাঁচটি পুরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেগুলি হলো বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। ধূপগুড়ি বাদে প্রায় সবকটি পুরসভাতেই দীর্ঘ দিন বা মেয়াদ শেষের পর নির্বাচন বকেয়া থাকায় এগুলি এতদিন প্রশাসক মণ্ডলীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল।
নির্বাচন নভেম্বরের শেষে না হয়ে ডিসেম্বরে সরে যাওয়ার পেছনে প্রধানত ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ ও সীমানা নির্ধারণের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া কাজ করছে। ২০৯টি ও ৬৮টি বর্ধিত ওয়ার্ডের চূড়ান্ত সীমানা চিহ্নিতকরণ করে তদনুযায়ী নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রকাশ করার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন। পাশাপাশি ৭টি পুরসভার হাজার হাজার বুথে ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ইভিএম সরবরাহ ও পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং ও কার্শিয়াং পুরসভায় একযোগে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনর্বহাল হতে চলায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইনি বিধিনিয়ম মেনে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
