মঙ্গলবার, নভেম্বর 3, 2026
21:55:10 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

অপরাধমুক্ত বাংলা গড়ার শপথ শুভেন্দুর! মহিলাদের নিরাপত্তায় কড়া পুলিশি নীতি

তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:অপরাধমুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, রাজ্যের শিল্পায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূল জমানার পর থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মোকাবিলা করাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা রুখতে প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরাধ দমনে পুলিশকে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনায় পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। গত জুলাই মাসে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রবাশ মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন। এরপর গত অক্টোবর মাসে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তরা পুলিশকর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এই দুই ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও অপরাধ দমনে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর বক্তব্য, মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং মাদক কারবারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি মহিলাদের উপর অত্যাচার করলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ফলে অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।অন্যদিকে, গত ১৭ অক্টোবর উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাও প্রশাসনের কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনার পরই তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও নেয় রাজ্য সরকার। তদন্তে আয়োজক সংস্থার পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চোরবাগান-কাণ্ডের পর রাজ্যের অন্যান্য বড় পুজোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সীমান্ত সুরক্ষা থেকে নারী নিরাপত্তা, অপরাধ দমন থেকে প্রশাসনিক জবাবদিহি—একাধিক ক্ষেত্রে নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনের শাসন, স্বচ্ছ তদন্ত এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শেষ পর্যন্ত তাঁর সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে উঠবে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন