মঙ্গলবার, নভেম্বর 3, 2026
22:29:12 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

দলত্যাগ বিরোধী আইনের ভয়,নাকি ঋতব্রতর নেতৃত্বে অনাস্থা?

তৃণমূলের অন্দরে ফের ঘরওয়াপসির জল্পনা

বিট্টু রায় চৌধুরী,মানুষের মতামত:দলত্যাগ বিরোধী আইনের মুখে পড়ার ভয়, নাকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা? পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এমনই একাধিক প্রশ্ন। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে ভাঙনের জল্পনা। এরই মধ্যে একাংশ বিধায়ক ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে আসতে শুরু করেছেন বলে দাবি করছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। যদিও এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা।

বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক শিবির বদলানো বিধায়কদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর। বিশেষ করে নিজেদের বিধানসভা এলাকায় যেতে না পারা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা এবং চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের মতো পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর শিবির বদল করলেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। সেই কারণেই পুরনো শিবিরে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিধায়ক কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে গিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ এবং বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান। এই ঘরওয়াপসির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে দলীয় নেতৃত্বের কাছে ফেরার প্রবণতা, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁর শিবিরের ৬২ জন বিধায়ক এখনও একজোট রয়েছেন। অর্থাৎ, বিধায়ক সংখ্যায় কোনও ভাঙন ধরেনি বলেই দাবি বিরোধী দলনেতার। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বাস্তবে বিধায়কদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে চাইছেন না শিবিরের নেতারা।এর পিছনে দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিধায়করা প্রকাশ্যে শিবির বদলের কথা স্বীকার করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে। দলত্যাগের অভিযোগ এড়াতে এবং বিধায়ক পদ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।সব মিলিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।ঋতব্রতর ৬২ বিধায়কের ঐক্যের দাবি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব, আর কতজন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফেরেন, আগামী দিনেই তার উত্তর মিলতে পারে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন