বুধবার, নভেম্বর 4, 2026
02:20:28 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

সাগরমেলায় এবার পরিষেবার মহাচমক!২০ লক্ষ টেন্ট,ফ্রি বাস-খাবার,ভিআইপি ব্যবস্থায় না

সার্থক দাসগুপ্ত,মানুষের মতামত:‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই প্রবাদকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, থাকা, খাওয়া থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও পরিষেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাধিক নতুন উদ্যোগের ভাবনা রয়েছে নবান্নের। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের মেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ লক্ষ অস্থায়ী টেন্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, গঙ্গাসাগর মেলায় আলাদা কোনও ভিআইপি ব্যবস্থা না রাখার ভাবনা প্রশাসনের। সাধারণ পুণ্যার্থী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি, সকলের জন্য সমান পরিষেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

নবান্ন সূত্রের খবর, এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে গোটা ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা হয়েছে। কলকাতা থেকে কপিলমুনির আশ্রম পর্যন্ত যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সীমানায় প্রবেশের পর থেকেই তাঁদের অভ্যর্থনা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।

যাতায়াত থেকে থাকা-খাওয়া, সবেতেই বিনামূল্যে পরিষেবার ভাবনা

এবারের মেলায় কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামাল দিতে বাড়ানো হতে পারে বাসের সংখ্যাও। নদী পারাপারে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত লঞ্চ চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় রেলের সঙ্গেও বিশেষ পরিষেবা নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকী পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে রেলযাত্রার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর।

থাকার ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় চমক প্রায় ২০ লক্ষ আধুনিক টেন্ট তৈরির পরিকল্পনা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অস্থায়ী শিবির তৈরি করে পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে থাকার সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জল, স্নান এবং খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে। ভাণ্ডারায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুণ্যস্নানের জন্য বাড়ানো হবে ঘাটের সংখ্যা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তায় এআই, ১০টি হেলিকপ্টার, নজরদারিতে সেনাবাহিনী

লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে এবারের মেলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে গোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১০টি হেলিকপ্টার রাখার কথা ভাবা হয়েছে। প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে সংখ্যাও। আকাশপথ ও জলপথে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারির পরিকল্পনাও রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে অত্যাধুনিক অনুসন্ধান কেন্দ্র, সচিত্র পরিচয়পত্র এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক। পুণ্যার্থীদের কোনও সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হবে সহায়তা কেন্দ্র।

ভিআইপি নয়, গুরুত্ব সাধারণ পুণ্যার্থীদের

এবারের গঙ্গাসাগর মেলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে সরে আসা। আলাদা করে কোনও ভিআইপি পরিষেবা না রেখে সকলের জন্য একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন। কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্মীদের শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দিনরাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গঙ্গাসাগর মেলাকে শুধু দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ নয়, আন্তর্জাতিক মানের একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। তবে এই বিপুল আয়োজনের বাস্তবায়ন, পরিষেবার মান এবং ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবের সমন্বয় কতটা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন