গড়বেতার সভা থেকে ছোট আঙারিয়া ও নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো মামলার ফাইল ফের খোলার ইঙ্গিত, নিশানায় মহম্মদ সেলিম।
স্টাফ রিপোর্টার,মানুষের মতামত:ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম—বাম আমলের একাধিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার পুরনো মামলা ফের খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিশানা করেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের ‘রক্তাক্ত সূর্যোদয়’—যে সমস্ত ঘটনায় রাজনৈতিক হিংসা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল,সেগুলির ফাইল ফের খোলা হবে। তাঁর বক্তব্য, গড়বেতার যে পার্টি অফিস থেকে অস্ত্র নিয়ে নন্দীগ্রামে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সেই ঘটনাগুলিরও তদন্ত হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগানো এবং কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্ত নিয়েও নানা আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, পুরনো মামলাগুলির আইনি অবস্থান কী এবং সেগুলি নতুন করে তদন্তের পথে কতটা এগোনো সম্ভব। সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ পালটা দাবি করেছেন, ছোট আঙারিয়া মামলার বিচার হয়েছে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অভিযুক্তেরা খালাস পেয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, মামলাটি নিয়ে হাই কোর্টে আইনি বিষয়ও বিচারাধীন রয়েছে। ফলে নতুন করে ফাইল খোলার বিষয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ দিনের সভায় শুভেন্দু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ঘিরে হিংসার অভিযোগ এবং কেশপুর-চন্দ্রকোনার অতীত ঘটনাও তোলেন। গড়বেতাকে আগামী বাজেটে মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাসও দেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে পুরনো রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নতুন করে রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় উঠে এল। তবে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি আর বাস্তবে মামলা পুনরায় চালুর আইনি প্রক্রিয়া—দুটি যে এক বিষয় নয়, তা স্পষ্ট। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
