বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 1, 2026
18:07:03 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

অসহায় পরিবারকে অ্যাম্বুলেন্স,অভিযোগের ঝড়,দীর্ঘ মামলা—শেষে কী হল রায়?

২০২৩ সালে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সমাজকর্মী অঙ্কুর দাস। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলায় প্রায় তিন বছর পর জেলা আদালতে বেকসুর খালাস পেলেন তিনি।

তপন রায়,মানুষের মতামত:প্রায় তিন বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান। বৃহস্পতিবার জেলা আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস পেলেন সমাজকর্মী অঙ্কুর দাস। আদালতে চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৫ মে। অভিযোগ, টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার ব্যবস্থা করেছিলেন অঙ্কুর দাস।

পরবর্তীতে জলপাইগুড়ি অ্যাম্বুলেন্স চালক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই উদ্যোগের মাধ্যমে তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা শুরু হয়।দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালতের রায়ে স্বস্তি পান অঙ্কুর। রায়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি জানান, অসহায় পরিবারকে সাহায্য করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। মামলার কারণে দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

অঙ্কুরের দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই তাঁকে আইনি লড়াইয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের রায়ে মামলার এই অধ্যায়ের আপাতত অবসান হল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্বস্তি ফিরলেও, ঘটনাটি মানবিকতা, প্রশাসনিক পরিষেবা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নকে ফের সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই রায় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Share with

আরো পড়ুন -