বুধবার, নভেম্বর 4, 2026
15:29:03 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বিনিয়োগ চাই,চাকরি চাই—শিল্পায়নের রোডম্যাপ নিয়ে মুখোমুখি শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়

বাংলায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।টাটা, রিলায়েন্স,আদানি বিনিয়োগ ও উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার!

জয় চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:বঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। ‌বিজেপি প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। ‌ এতদিন পর্যন্ত শিল্প নেই বলে আপনারা প্রতিবাদ করেছেন।ক্ষমতায় এবার আপনারাই।শিল্প বার্তা কিভাবে দিতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে?

তাপস রায় :সরকারের বয়স পাঁচ মাস অতিক্রান্ত।এইটুকু সময়ের মধ্যে শিল্প কেন্দ্রিক বেশ কিছু পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।এতোটুকু সময়ের মধ্যে একেবারে আমল পরিবর্তন হবে সেটা বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা হতে পারে না। সময় অবশ্যই লাগবে।কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক শিল্পনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছি। ‌ ইতিমধ্যেই আপনারা দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মুম্বাইতে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।নবান্নতে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ‌ দেশের সমস্ত বিনিয়োগ কালীদের লক্ষ্য এখন পশ্চিমবঙ্গ।আপনারা জানেন কিছুদিন আগেই হলদিয়াতে আম্বানি গোষ্ঠীর একটি সেক্টরের পথচলা শুরুর প্রাথমিক ক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।এই সমস্ত বিষয়গুলি প্রমাণ করছে, বিজনেস দিস্টিনেশন এখন বেঙ্গল। আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন,রিলায়েন্স, আদানি গোষ্ঠী সহ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীরা বড় বড় ইনভেসমেন্ট এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ মুখী হচ্ছেন।কারণ পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার আসার পর নতুন আশা জেগেছে শিল্পক্ষেত্রে।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার শিল্পক্ষেত্রে ‘পজিটিভ’ বার্তা দিয়েছেন। পেপসি থেকে ক্যাম্পাকোলা সবাই এখন নতুনভাবে পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে ভাবছে।এবং সেটা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

মানুষের মতামত:শিল্প করতে গেলে ‘লাল ফিটের ফাঁস’ -এ আটকে গিয়েছিল বেশ কিছু বিনিয়োগ।বিষয়টি নিয়ে আপনারা কি ভাবছেন?

তাপস রায়:ইতিমধ্যেই ৩৫টির ওপর ইন্ডাস্ট্রিকে মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে জমির কাগজ তুলে দেওয়া হয়েছে।যত ভেতরে ঢুকছি মন্ত্রী হওয়ার পর, ততই আশ্চর্য হচ্ছি। বিগত ১৫ বছর তৃণমূল সরকার এভাবে শিল্পক্ষেত্রে ‘নেগেটিভ’ চিন্তা ভাবনা করেছে সেটা কাটাতে সময় লাগবে। তবে শুরুটা খুব ভালো হয়েছে।পূর্বতম তৃণমূল আমাদের থেকে এই বঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য ল্যান্ড পলিসি নেই। বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও ভাবা হয়নি। যারা বিনিয়োগ করতে চেয়েছেন প্রথমই তারা সিন্ডিকেটের সম্মুখীন হয়েছেন। যার ফলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী।

মানুষের মতামত:এক সময় টাটা তাদের সব থেকে কম দামি ন্যানো গাড়ির জন্য জমি পেয়েও করতে পারেনি। জমি আন্দোলনের ফলে তা ভেস্তে যায়।টাটাতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করবেন?

তাপস রায়:আমি এর আগেও বলেছি, দরকার হলে আমি নিজে গিয়ে টাটা গোষ্ঠীর কাছে দরবার করব। ‌ বিগত ১৫ বছরের না হয়েছে কৃষি না হয়েছে শিল্প। ‌ বিগত সরকারের আমলে বেশকিছু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাততারি গুটিয়ে চলে গিয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নতুন সরকার আমাদের চেষ্টা করছে। ‌ পিসির শিল্পপতিরাই শুধু নয়, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দুবাই এবং ইউরোপের বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

মানুষের মতামত:একসময় তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশের মধ্যে প্রথমদিকে ছিল। সেই বিষয়টা কি নতুন সরকার আসার পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আশা করতে পারে?

তাপস রায়:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেমিকন্ডাক্টার শিল্প কলকাতাতেই হবে ঘোষণা করেছিলেন। ‌ পূর্বতন তৃণমূল সরকার এ ব্যাপারে তেমনভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ‌ এমনকি সেমিকন্ডাক্টার শিল্প যাতে হয় সে ব্যাপারেও উদ্যোগ সেইভাবে নেয় নি। ‌ পাশাপাশি ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীরা নয় তাদের সংস্থার সম্প্রসারণ বা নতুন করে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

মানুষের মতামত:কোন বিষয়বস্তু করতে গেলে নিশ্চয়ই সময় লাগবে। ‌ আপনার নতুন সরকারি এসেছেন। কত দিনের মধ্যে এই শিল্পের অগ্রগতি আমরা দেখতে পাবো?

তাপস রায় : সময় দিতে হবে। শিল্প ক্ষেত্রে যদি সঠিক নীতিতে এগোতে হয় তাহলে পরিকল্পনামাফিক ভাবেই চলতে হবে। ‌ আমরা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শিল্প বিপ্লবের দিকেই এগোচ্ছি। বড় শিল্প না হলে চাকরি-বাকরি ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। ‌ শুধু বিনিয়োগ করলেই তো হবে না,কর্মসংস্থান তৈরীর ব্যাপারেও ভাবতে হবে। যাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাইরে না চলে যায়। পূর্বতম তৃণমূল সরকারের আমলে তো সবাই বাইরে চলে গেছে। সেইটা আমরা হতে দেব না। বঙ্গের মানুষ বঙ্গেই কাজ পাবেন। এমএসএম ই থেকে বড় শিল্প সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ এখন ‘বেস্ট বিজনেস ডেস্টিনেশন’।

মানুষের মতামত:তৃণমূল সরকারের আমলে বারবার বলেছেন উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত।শিল্প ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের ব্যাপারে কি ভাবছেন?

তাপস রায় : উত্তরবঙ্গের জন্য শিল্প ভাবনা অবশ্যই আমাদের সরকারের আছে। চা শিল্প থেকে শুরু করে পর্যটন সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গের জন্য অবশ্যই ভাবনা আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের আছে। উত্তরবঙ্গের একটা শিল্প সম্মেলনের ব্যাপারেও ভাবনা চিন্তা হচ্ছে।

মানুষের মতামত:আমাদের শেষ প্রশ্ন, সংকল্প পত্রে থাকা শিল্প সংকল্প বাস্তবায়নে আপনারা কতটা আশাবাদী?

তাপস রায়: আমরা তো আশা করবোই। কিন্তু গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আশা নিয়ে আমাদের সরকারে এনেছেন। সুতরাং তাদের আশা যাতে ভঙ্গ না হয় তার জন্য সদা সচেষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত। ‌ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাত-দিন বিভিন্ন বিষয়ে উন্নয়নের বার্তা দিতে খাটা খাটনি করছেন।আমরা তার সঙ্গ দিচ্ছি। এটা বাস্তব যে একদিনে সম্ভব নয়। একটু সময় লাগবে, অবশ্যই আমরা আশাবাদী শিল্পক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ নতুন আসার আলো দেখবে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন