শিশুর জন্ম থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত কোন কোন টিকা প্রয়োজন? জানুন ভারতের জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচির সময়সূচি,বিনামূল্যে টিকার সুবিধা এবং কোনও ডোজ বাদ পড়লে কী করবেন।
একটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন:শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে জন্মের পর থেকেই নিয়ম মেনে টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি।বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে শিশুর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া উচিত।
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি বা UIP-র অধীনে শিশুদের একাধিক বিনামূল্যের টিকা দেওয়া হয়।
বয়স অনুযায়ী টিকার সময়সূচি
| শিশুর বয়স | প্রয়োজনীয় টিকা
| জন্মের সময় | BCG, OPV-0, হেপাটাইটিস বি |
| ৬ সপ্তাহ | OPV-1, পেন্টাভ্যালেন্ট-1, রোটাভাইরাস-1, fIPV-1, PCV-1 |
| ১০ সপ্তাহ | OPV-2, পেন্টাভ্যালেন্ট-2, রোটাভাইরাস-2 |
| ১৪ সপ্তাহ | OPV-3, পেন্টাভ্যালেন্ট-3, রোটাভাইরাস-3, fIPV-2, PCV-2 |
| ৯-১২ মাস | MR-1, PCV বুস্টার, fIPV-3 |
| ১৬-২৪ মাস | MR-2, DPT বুস্টার-1, OPV বুস্টার |
| ৫-৬ বছর | DPT বুস্টার-2 |
| ১০ বছর | Td |
| ১৬ বছর | Td |
নির্দিষ্ট জেলায় জাপানিজ এনসেফালাইটিস (JE) টিকাও দেওয়া হয়। এই সময়সূচি কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচির ভিত্তিতে তৈরি।
টিকা বাদ পড়লে কী করবেন?
অনেক সময় অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা বা অন্য কোনও কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শিশুর টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বাদ পড়া টিকা দিতে হবে। সাধারণত আগের টিকাগুলি আবার প্রথম থেকে শুরু করার প্রয়োজন হয় না। তবে কোন টিকা কতদিন পর্যন্ত দেওয়া যাবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। ITSU +1
অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
* শিশুর টিকাকরণের কার্ড যত্ন করে রাখুন।
* প্রতিটি টিকার তারিখ লিখে রাখুন।
* জ্বর বা সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* সরকারি টিকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টিকার বিষয়ে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
মনে রাখবেন, টিকাকরণ শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, শিশুকে ভবিষ্যতের বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি হাসপাতালে জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচির টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্র:কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক, ভারত সরকার এবং UNICEF)
