জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া ব্লক,ইন্ডিয়া ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা। বিজেপি-আরএসএসের কৌশল ও ২০২৯-এর প্রস্তুতি নিয়েও চলছে চর্চা।
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:দেশজুড়ে জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট শিবির, সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল ‘ককরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), বিভিন্ন এনজিও ও গণসংগঠনের তীব্র বিজেপি বিরোধী ও মোদি বিরোধী আন্দোলনে বেজায় চিন্তা বেড়েছে বিজেপির অন্তরে। শুধু বিজেপি নয়,বিজেপির চালিকা শক্তি আরএসএস-ও যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছে।
আরএসএস-এর শীর্ষ নেতারা তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার জন্য দেশজুড়ে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সম্মেলন ইত্যাদি করে চলেছেন। কয়েক হাজার সম্মেলনে তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে আরএসএস তাদের নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে পেরেছে। তারা আদর্শগত লড়াই চালাতে চাইছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখেই মোহন ভাগবতের লড়াই শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, মোদি-শাহদের বারবার সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে সিজেপি সম্পর্কে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, সিজেপি যে বিদেশি অনুদান এবং বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত —সে ব্যাপারেও আগাম সতর্ক করা হয়েছে মোদি-শাহদের।
বিজেপির অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।মোদির ঘনিষ্ঠজন নয় বলে প্রচলিত নেতারা—যেমন শিবরাজ সিং চৌহান, নিতিন গড়করি ও রাজনাথ সিংকে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে!মোদি-শাহরা তাদের সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন। ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি বৈঠকের পর তার মোকাবিলা করতে জাতীয় স্তরে যে সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে, তা করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। শিবরাজ সিং চৌহান, নিতিন গড়করি ও রাজনাথ সিংয়ের মতো চিহ্নিত “মোদি সমর্থক নন” নেতারা এখন ভারতীয় জনতা পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন।
বিজেপি রাজ্যভিত্তিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দেশের মানুষের মধ্যে কতটা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে তা জানতে। এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কারণে আগামী ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যে ১১টি রাজ্যে নির্বাচন, তাতে বিজেপির সম্ভাবনা কতটুকু? ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জাতীয় নেতারা নিজেরা মেনে নিয়েছেন যে এককভাবে বিজেপির পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।বিগত লোকসভা নির্বাচনে যে ২৪০টি আসন জিতেছিল বিজেপি,সেটা রক্ষা করাই এখন বিজেপির নেতাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
