উৎসবের পর কলকাতায় বায়ুদূষণ, জমে থাকা আবর্জনা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ।দূষণ নিয়ন্ত্রণ,বর্জ্য অপসারণ এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পুরসভা ও নাগরিকদের কী করণীয়?
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত: উৎসবের আলো নিভেছে,কিন্তু শহরের পরিবেশে রয়ে গিয়েছে তার প্রভাব।একের পর এক উৎসব,মেলা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ, জমে থাকা আবর্জনা এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শীতের মরসুম এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ সচেতন মানুষ।
উৎসবের সময় রাস্তায় মানুষের ভিড়, যানবাহনের চাপ, আতশবাজির ধোঁয়া এবং বিভিন্ন অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্য পরিবেশের উপর বাড়তি চাপ ফেলে। প্লাস্টিকের প্যাকেট, থার্মোকলের থালা, খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য আবর্জনা অনেক সময় রাস্তার ধারে, নিকাশির মুখে কিংবা জলাশয়ের আশপাশে জমে থাকে। সময়মতো সেগুলি সরানো না হলে নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার ঘটতে পারে।
শীতের শুরুতে বাতাসের গতিবেগ কমে গেলে এবং দূষিত কণার ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমলে বায়ুর মানের অবনতি হতে পারে। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো এবং আবর্জনা পোড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের স্বাস্থ্যে। চোখ জ্বালা, কাশি, শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, ধুলো নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকাশ্যে আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি বায়ুর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে দূষণের উৎস চিহ্নিত করাও প্রয়োজন।তবে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং বর্জ্য আলাদা করে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। উৎসবের আনন্দের পর শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখাই এখন প্রশাসন এবং নাগরিকদের যৌথ দায়িত্ব।
