বিরোধী মতের বই ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা আরএসএস নেতার, চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপি সভাপতির
তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর বুকস্টলে ভাঙচুরের ছবি সামনে আসার পর এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু। একই সঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। বিরোধী মতাদর্শের বই ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘ভারতবর্ষের আদর্শ বোঝেননি’
বুকস্টল ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা করে জিষ্ণু বসু বলেন, “ক্ষমতার দম্ভে মদমত্ত হয়ে যাঁরা বুকস্টল ভেঙে দিচ্ছেন, তাঁরা ভারতবর্ষকেও বোঝেননি।” তাঁর বক্তব্য, অন্যের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানো ভারতীয় ঐতিহ্য ও হিন্দু ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিরোধী মতের বই সরিয়ে দেওয়া বা বুকস্টল ভেঙে দেওয়ার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিষ্ণু বসুর কথায়, ক্ষমতার দম্ভে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত আদর্শেরই ক্ষতি করে। তাঁর মতে, অতীতে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিরোধী মত প্রকাশে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও মানুষের রায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করা প্রয়োজন।
‘প্রকৃত বিজেপি কর্মী এই কাজ করতে পারে না’
বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপির নাম জড়ানো নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও প্রকৃত বিজেপি কর্মী এই কাজ করতে পারেন না। সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুরকে সমর্থন করা যায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শমীক বলেন, বিরোধী মতাদর্শের বই হতে পারে, কিন্তু সেই বই ছুড়ে ফেলা বা নষ্ট করা কোনও সুস্থ ও শিক্ষিত সমাজের আচরণ নয়। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার মাধ্যমে বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চক্রান্ত হতে পারে। তবে ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও বুকস্টল ভাঙচুরের নিন্দা করেছেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে বই, বুকস্টল কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এখন দেখার, এই ঘটনাগুলির তদন্তে কী উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে পুজোমণ্ডপের সামনে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বুকস্টলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ করা হয়।
