ওয়াশিংটনে বদলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ,মূল্যবৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ ও প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব ভোটবাক্সে। আইন প্রণয়ন থেকে বাজেট, অভিবাসননীতি ও বিদেশনীতি—একাধিক ক্ষেত্রে বাড়তে পারে ট্রাম্পের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বিট্টু রায় চৌধুরী,মানুষের মতামত:আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ দুই বছরের শাসনপর্বে তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে ভোটার সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
নতুন কংগ্রেস ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে আইন প্রণয়ন। ট্রাম্পের করনীতি, অভিবাসননীতি, সরকারি ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে। বাজেট অনুমোদন এবং সরকারি ঋণের সীমা বাড়ানো নিয়েও তৈরি হতে পারে অচলাবস্থা।
দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করতে পারবে। সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত এবং বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে তারা।অভিবাসননীতি ও H-1B ভিসা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় পেশাদারদের উপরেও। একইভাবে শুল্কনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সম্পর্কও নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
চিন, রাশিয়া ও ইউক্রেন নীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়েও কংগ্রেসে চাপ বাড়তে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ভেটো দেওয়ার অধিকার থাকবে এবং বিদেশনীতি ও অভিবাসনের মতো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতাও বজায় থাকবে।২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের রাজনৈতিক প্রস্তুতিও শুরু হবে। সব মিলিয়ে আগামী দুই বছর আমেরিকার রাজনীতিতে সহযোগিতার পাশাপাশি সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। এখন দেখার, বিরোধী কংগ্রেসের চাপে ট্রাম্প কতটা বদলান তাঁর শাসনকৌশল।
