বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 5, 2026
19:48:32 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

‘বেঙ্গল মিনস বিজনেস’-র বদলে নতুন স্লোগান ‘ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল,গ্রো উইথ বেঙ্গল’,শিল্পপতিদের উদ্দেশে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন স্লোগান ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ‘বেঙ্গল মিনস বিজনেস’-এর বদলে এবার ‘ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল’। নতুন শিল্পনীতি, ল্যান্ড পুলিং এবং ৩৩টি শিল্পগোষ্ঠীকে জমির নথি প্রদান ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলের আগ্রহ।

বিপ্লব চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন স্লোগান সামনে আনল বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে বহুল প্রচলিত স্লোগান ছিল ‘বেঙ্গল মিনস বিজনেস’। এবার সেই স্লোগানের বদলে নতুন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল’। অর্থাৎ, বাংলায় বিনিয়োগ করুন, বাংলার সঙ্গেই এগিয়ে চলুন।

শিল্পের উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিই যে বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, এদিনের বক্তব্যে তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অতীতের শিল্পনীতির সমালোচনাও করেন তিনি।

বাম আমলের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে অতিরিক্ত শ্রমিক আন্দোলন, ঘনঘন ধর্মঘট এবং শিল্পের অনুকূল পরিবেশের অভাবে রাজ্যের বহু পুরনো শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিত্তরঞ্জন থেকে হলদিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের অবনতির জন্য তিনি তৎকালীন সরকারের নীতিকেই দায়ী করেন।

রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের ওপর প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাবে রাজ্যের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষিত যুবক বেকার। পাশাপাশি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ শ্রমিক কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এদিন তুলে ধরা হয়নি।

জমি নীতি নিয়ে মমতা সরকারের সমালোচনা

শিল্পের জন্য জমি পাওয়া নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিল্পের জন্য সরাসরি জমি অধিগ্রহণ না করার নীতি গ্রহণ করেছিল। শিল্পপতিদের নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনতে হত। শুভেন্দুর মতে, এই নীতির ফলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের শিল্প পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৩ সালের সংশোধিত ভূমি ক্রয় আইন গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের জন্য জমি জোগাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘ল্যান্ড পুলিং’ বা জমি একত্রিত করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩৩টি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে জমির নথি

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৩৩টি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও শিল্পপতিদের হাতে জমি সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে নতুন শিল্প স্থাপনের পথ আরও সহজ হবে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতি সামনে রেখে বাংলায় বিনিয়োগ টানার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তবে নতুন স্লোগান বাস্তবে কতটা শিল্প আনতে পারে, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের কতজনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন