বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 29, 2026
04:46:49 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

গ্রামে চিকিৎসক নেই,হাসপাতালে পরিষেবা নেই—স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে কী ছক নতুন সরকারের?

জয় চক্রবর্তী:৩০০ ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল ইউনিট, চিকিৎসকদের জন্য ২০০টি আবাসন তৈরির উদ্যোগ,রেফার-রোগ কমাতে,গ্রামে চিকিৎসক, হাসপাতালে এসি বিশেষ নীতি—স্বাস্থ্য পরিষেবা বদলের একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা “মানুষের মতামত” কে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

মানুষের মতামত: আপনারা বারবার তৃণমূল আমলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এবার আপনারাই মানুষের ভোটে ক্ষমতায়। কিভাবে এগোতে চাইছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী :স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের সবথেকে জরুরি বিষয়গুলোর অন্যতম। আলাদা করে নজর অবশ্যই দিতে হবে। ‌ বাম আমলের অনুন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমরা দেখেছি। ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও আমরা দেখেছি। হাসপাতালে শুধু নীলা সাদা রং হয়েছে, আর কয়েকটা গেট হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন মোটেই হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে উদ্বোধন করেছেন। বাস্তবে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার কিছুই নেই। না আছে ডাক্তার, না আছে স্বাস্থ্যপরিসেবা সংক্রান্ত ব্যবস্থা। এইটার আমূল পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কিন্তু একদিনে তো সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। ‌ কিছুটা সময় দিন, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন অবশ্যই হবে। ‌ বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন অবশ্যই সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য গঠন করব। ইতিমধ্যেই তার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ‌

মানুষের মতামত:শহর ছাড়াও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের জন্য কোন কোন বিষয়গুলি নজর দিচ্ছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: খুবই ভালো প্রশ্ন। ‌ আপনাদের মাধ্যমে আমি জানাতে চাই শহরের মানুষের জন্য যেমন স্বাস্থ্যপরিসেবা অবশ্যই থাকবে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরী। ‌ আমরা ইতিমধ্যেই ৩০০ ভ্রাম্যমান মেডিকেল ইউনিট করেছি। ‌ এই ভ্রাম্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় থাকছে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা, এক্সরে সহ বেশ কিছু পরিষেবা। নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি ডাক্তার থাকছে। ‌ জেলার বা রাজ্যর প্রান্তিক মানুষের কাছে ভ্রাম্যমান মেডিকেল ইউনিট পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিদিন। ঘরের সামনেই মানুষ প্রাথমিক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যপরিসেবার যাবতীয় পদ্ধতির সুযোগ পাচ্ছেন। আমি নিজেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, গ্রামীণ হাসপাতাল গুলি পরিদর্শন করছি। সেখানকার অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি।

মানুষের মতামত:গ্রামে বিভিন্ন ডাক্তাররা চিকিৎসা পরিষেবা দিতে যেতে চান না। এ ব্যাপারে আপনি কি ভাবছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনেকগুলো জায়গায় পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখেছি স্বাস্থ্য পরিষেবার যেমন অমিল রয়েছে ঠিক তেমনি ডাক্তার থেকে নার্স বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করা মানুষদের সঠিক থাকার জায়গা নেই। তারা পরিষেবা দেবেন অথচ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় থাকা সহ অন্যান্য ব্যবস্থা গুলো করা প্রয়োজন রয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে একটা রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে। উনি সমস্ত বিষয়টা জানার পর জরুরী ভিত্তিক ভাবে এই কাজটি করতে বলেছেন। হেলথ সেন্টার কেন্দ্রিক ২০০ টি বাড়ির বানিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। আর যেগুলো বর্তমানে রয়েছে, সেগুলো মেরামত করার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। ‌

মানুষের মতামত:শহরের হাসপাতালের জন্য কি ভাবছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: অবশ্যই ভাবনা চিন্তায় রয়েছে। এখন যারা ইয়ং ডক্টর তাদের কথাও ভাবতে হবে। ‌ বিভিন্ন আউটডোরগুলো আমরা ইতিমধ্যেই শীততাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করছি। বসার জায়গা গুলো আমরা এসি করার ব্যবস্থা করছি। সকলের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট হাসপাতাল রয়েছে। সেগুলোর ওয়ার্ডগুলো পরিচ্ছন্ন এবং এসি করার ব্যবস্থা যাতে হয় সেই উদ্যোগও আমরা নিচ্ছি। ‌

মানুষের মতামত: আপনাদের সংকল্প পত্রে আয়ুষ্মান ভারতের কথা ছিল….

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আমাদের সংকল্প পথকে যা যা রয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটা যাতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয় তার জন্য আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কড়া নজর রয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য আয়ুষ্মান ভারত চালু হয়ে গেছে। যারা এই কার্ড পাচ্ছেন না তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনা চালু হয়েছে। এটাতো কম নয়। সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন তার ব্যবস্থা কিন্তু আমাদের সরকার ইতিমধ্যেই করেছে।

মানুষের মতামত:তৃণমূল সরকারের আমলে ‘রেফার’ করার প্রবণতা বড্ড বেশি ছিল। ‌ এটা বন্ধ করার উপায় আপনি ভেবেছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: খুব জরুরী প্রশ্ন। ‌ আমরা ইতিমধ্যেই একটা ‘পলিসি’ নিয়েছি। রেফার রোগ আমরা ধীরে ধীরে কমানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। বিষয়টি কিন্তু আগের থেকে অনেকটা কমেছে। ‌ এখনো পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ‌ কিন্তু আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই রেফার রোগ বন্ধ করার জন্য কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আগামী সময় নেব। বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আমাদের কথা হয়েছে। তাদের ১০ শতাংশ বেড সরকারি তরফ থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে, যাতে সেখানে নিঃশুল্ক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়। ‌ পিজি হাসপাতালের সঙ্গে কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতাল যাদবপুরের কেপিসি। তাহলে পিজির সঙ্গে কেপিসির একটা সামঞ্জস্য করে বিষয়টি করা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে এই ধরনের ব্যবস্থা থাকছে। ‌

মানুষের মতামত:স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মেডিকেল ইউনিট রাখার ব্যবস্থা করছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ‌ ছোট ছোট শিশুদের শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ‌ কিন্তু স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জরুরী পরিষেবার জন্য ফাস্টেড বক্স পর্যন্ত থাকে না। এটা আমরা নজরে রেখেছি। ‌ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে আবেদন করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে।

মানুষের মতামত: চিকিৎসার জন্য অনেকেই দক্ষিণ ভারত চলে যান। এই বিষয়টা নিয়ে আপনারা কি ভাবছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী:দক্ষিণ ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে অনেকটাই ভালো। এটা সন্দেহের ঊর্ধ্বে। ওদের দেখে শিখতে হবে। ‌ আমরা শিখছি। ‌ আমিও শিখছি। এক্ষুনি এক্ষুনি এই বিষয়টা বঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন। কিন্তু যদি সঠিক পদ্ধতিতে আমরা এগোতে পারি তাহলে দক্ষিণ ভারতের মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা আমরাও দিতে পারব। তবে অবশ্যই সময় প্রয়োজন। ‌ তবে বিশ্বাস আছে।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন