বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 29, 2026
04:00:34 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে বড় পদক্ষেপ?নবান্নে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে নবনিযুক্ত সরকারি স্কুল শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে লড়া নিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক। সিদ্ধান্তের সমালোচনায় প্রদীপ ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি স্কুল শিক্ষকরা আর সরাসরি রাজনীতি করতে পারবেন না। এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করছি, অন্য সব রাজ্যে শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতি করতে পারেন না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ ক্যাবিনেটে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকের পর থেকে যে সব শিক্ষক নিয়োগ হবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। পঞ্চায়েত পুরসভা বিধানসভা ও লোকসভার ক্ষেত্রে লড়তে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যারা এই মুহূর্তে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া সুযোগ পেয়েছেন, সেই অধিকার আমরা খর্ব করছি না। অতঃপর যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ করা হবে, সারা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা অন্তর্ভুক্ত করলাম ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর মধ্যে দিয়ে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার মান ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট এবং 15 বছর দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। যাদের মাইন্ড সেটটাই ছিল ছেলেটার বাংলাদেশ তৈরি করা। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে, শিক্ষা মন্দিরে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এটি একটি বড় উদ্যোগ।”

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের পক্ষে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। আক্রমণের সুরে তিনি বলেছেন, “রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিষয়টি আইন এনেও এই উদ্যোগ কার্যকর করার চেষ্টা হয়, তবে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী যে দাবী করেছেন যে ভারতের কোথাও শিক্ষকরা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারেন না এ কথা সর্বৈব অসত্য।” এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সেটার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে স্কুলের মানোন্নয়ন, স্কুল পরিচালনায় গণতন্ত্রকে ব্যবহার করা এবং শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা। সেসবগুলো না করে উনি উল্টো দেখছেন কেন? আগে শিক্ষক নেই, তাবে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারবে কিনা? মূল প্রশ্নটা ৩০:১—এই ছাত্র-শিক্ষক রেশিওতে শিক্ষক নিয়োগের কথা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আমাদের দেশে। সেইটার আশপাশে না থেকে নিজে ফেইল করে বাকিদের কেন বলছেন আমি জানি না। মানে চর্চা ছাড়া এরকমের বলাটা খুব মানে হয় বলে মনে হয় না।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষক পেশায় যারা আছেন, তাদেরকে স্কুলে পড়াবার জন্য সুব্যবস্থা করা। শিক্ষার অগ্রগতির জন্য ব্যবহার করা। না শিক্ষকদের এখন এসআইআরের লিস্ট করার জন্য আর সেন্সাসের লিস্ট করার জন্য ব্যবহার হবে—এইটা পারলে সরকার দেখুক।”

অন্যদিকে এর আগের ক্যাবিনেটে ৪৫ হাজার নতুন পদ তৈরি করা হয়েছিল। পুর ও নবরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ দফতর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, দমকল, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর মিলিয়ে ১১৯৯ একটি নতুন পদ নিয়োগের জন্য তৈরি করেছে মন্ত্রিসভা। দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি এখনও পর্যন্ত ৬০ হাজারের মতো নতুন পদ তৈরি করে চাকরি দেওয়া হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়েছে পুলিশের ক্ষেত্রেই কাজটি করেছে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন