প্রিয়জনের হারানোর বেদনা থেকে আত্মঅনুসন্ধান—দুই শিল্পীর সৃষ্টিতে জীবনের নানা অনুভূতির প্রকাশ, প্রদর্শনী চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত
স্টাফ রিপোর্টার,মানুষের মতামত: শোক,স্মৃতি,প্রিয়জনের অনুপস্থিতি,আত্মঅনুসন্ধান এবং ব্যস্ত জীবনের মাঝে একটু থেমে নিজেকে সময় দেওয়া—মানুষের মনের এমন নানা অনুভূতি শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছে ‘বর্ষার ঘর’ (Monsoon Rooms) প্রদর্শনী। কলকাতার টিআরআই শিল্প ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দুই শিল্পী বৃদ্দি (গ্রে) ও হংসিকা মঙ্গওয়ানির সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে উঠে এসেছে জীবনের গভীর আবেগ ও অনুভূতির নানা দিক। কেসিটি গোষ্ঠীর সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল গত ২১ আগস্ট। চলবে আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রদর্শনীর একতলার নিচের অংশে রয়েছে বৃদ্দি (গ্রে)-র একক শিল্পসম্ভার ‘অনুপস্থিতির উপস্থিতি’। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা, পুরনো স্মৃতি এবং শূন্যতার অনুভূতিই এই শিল্পসম্ভারের মূল বিষয়। নিজের মায়ের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্পী আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, সুগন্ধ এবং হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে শোকের বিভিন্ন রূপ তুলে ধরেছেন।‘মৃত্যুশয্যা’, ‘দ্বিতীয় আবরণ’ এবং ‘আমার মাকে লেখা চিঠি’—এই শিল্পকর্মগুলিতে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও হারানোর যন্ত্রণা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। এখানে শোক কেবল দুঃখের অনুভূতি নয়, বরং প্রিয়জনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক, স্মৃতি এবং মনের গভীরে থেকে যাওয়া আবেগের এক শিল্পিত প্রকাশ। দর্শকদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ করে দিতে রয়েছে একটি অংশগ্রহণমূলক শিল্পস্থাপনাও।
অন্যদিকে, প্রদর্শনীর প্রথম তলার গ্যালারিতে রয়েছে ‘শ্বাসের কাজ’। টিআরআই শিল্প ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় তৈরি এই বিশেষ পরিসরের উদ্দেশ্য হল দৈনন্দিন ব্যস্ততার বাইরে দর্শকদের কিছুটা সময় নিজের জন্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এখানে শিল্পী হংসিকা মঙ্গওয়ানির আলো-নির্ভর সৃষ্টিগুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শ্বাসপ্রশ্বাস, শরীরের ছন্দ এবং মনের অনুভূতির পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি এই শিল্পকর্ম দর্শকদের নিজেদের শরীর ও মনের প্রতি আরও সচেতন হতে উৎসাহিত করে।
দুই শিল্পীর সৃষ্টির বিষয় আলাদা হলেও, উভয়ের কাজেই রয়েছে নিজেকে নতুন করে চেনার আহ্বান। একদিকে প্রিয়জনের অনুপস্থিতি ও স্মৃতির বেদনা, অন্যদিকে জীবনের ব্যস্ততার মাঝে থেমে দাঁড়ানো, নিজের অনুভূতিকে বোঝা এবং প্রশান্তি খুঁজে নেওয়া—এই দুই অভিজ্ঞতাকে এক সুতোয় বেঁধেছে ‘বর্ষার ঘর’।শুধু শিল্পকর্ম দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই প্রদর্শনী। বরং শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজের জীবনের স্মৃতি, সম্পর্ক ও অনুভূতিগুলিকে নতুন করে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করেছে এই উদ্যোগ। মানুষের মনের নীরব অনুভূতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করে কলকাতার শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে ‘বর্ষার ঘর’।
