২০২৭ সালে মোদি সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা। চন্দ্রবাবু নাইডু, নীতীশ কুমার ও চিরাগ পাসওয়ানকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশল এবং উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা।
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট ও ককরোজ জনতা পার্টির মোদি সরকার বিরোধী ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেবার পর কলকাতায় ফিরে এসেছেন। তিনি কলকাতাতে বসে জাতীয় রাজনীতির সলতে পাকানো কাজ শুরু করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ঘনিষ্ঠ মহলকে বলেছেন যে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে অনেক আগেই কেন্দ্রে মোদি সরকারের পতন ঘটবে। তার ভবিষ্যৎবাণী চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম, নীতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল, চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তির মতো একাধিক শরিক দল বিজেপির থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে। তারা ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে যোগ দেবে। তিনি তার ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন চন্দ্রবাবু নাইডু, নীতিশ কুমার ও চিরাগ পাসওয়ানরা ইতিমধ্যে মোদি সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং যেভাবে তারা বিরোধীদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তার ঘোর বিরোধিতা শুরু করেছেন। চল ইতিমধ্যে নাকি চন্দ্রবাবু নাইডু, নীতিশ কুমার, চিরাগ পাসওয়ানরা তাদের অসন্তোষ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বলেছেন। মমতার বক্তব্য বিজেপি এককভাবে ২৪০ আসন পেয়েছিল। চন্দ্রবাবু, নীতিশ চিরাগ পাসওয়ানদের সমর্থনে তাদের সরকার চলছে। এই সরকার খুব একটা শক্তিশালী সরকার প্রথম থেকেই ছিল না। এখন ইন্ডিয়া জোট অন্যদিকে জেএনজি আন্দোলনের চাপে ভঙ্গুর অবস্থা হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন যে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম, নীতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল ও চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টির উচিত অবিলম্বে
সমর্থন প্রত্যাহার করে বিরোধীদের পাশে এসে দাঁড়ানো ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন তিনি ডিএমকে প্রধান স্টালিন, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে যোগসূত্র বজায় রাখছেন। শুধু তাই নয় বিজু জনতা দলের নবীন পট্টনায়কের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। ওয়াইএসআর কংগ্রেসেও প্রয়োজনে বিরোধী শিবিরে আসতে আগ্রহী বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন। মমতা মনে করেন ২৭ সালেই মোদি সরকারের পতন ঘটতে পারে। তার ধারণা যে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা দখল করবে এবং তাসের ঘরের মতন ভেঙে পড়বে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনীয় যে ভারতীয় রাজনীতির মাইলস্টোন হতে চলেছে তা একান্তে কবুল করেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন যে জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আঞ্চলিক দলগুলো যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তবে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দূরদর্শী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্রে শরিক দলগুলোর ভূমিকা আগামী দিনে মোদি সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে—এটাই মূল প্রতিপাদ্য।
