
আয়রনের ঘাটতি, অনিয়মিত খাবার ও অপুষ্টিতে ব্যাহত হতে পারে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি
ডা. শোভনা হক
শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবারের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু এখনও বহু শিশু অপুষ্টি ও রক্তাল্পতার সমস্যায় ভুগছে। সময়মতো এই সমস্যা চিহ্নিত করা না গেলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার ক্ষমতা এবং স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। তাই শিশুর খাবারের অভ্যাস ও ওজনের দিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কেন হয় অপুষ্টি ও রক্তাল্পতা?
শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পৌঁছলে অপুষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া, খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব, বারবার সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে খাবারের পুষ্টি শোষণে সমস্যা এর কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, আয়রন বা লৌহের ঘাটতি শিশুদের রক্তাল্পতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে ভিটামিনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
শিশুর ওজন বয়স অনুযায়ী না বাড়া, দুর্বলতা,সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো, খিদে কমে যাওয়া এবং মনোযোগে সমস্যা—এগুলি অপুষ্টি বা রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে। তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ও শিশুর বৃদ্ধির মূল্যায়ন করতে পারেন।
খাবারের অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
শিশুর প্রতিদিনের খাবারে ডাল,ডিম,মাছ, মাংস,শাকসবজি,ফল এবং বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। আয়রনের উৎস হিসেবে ডাল,ছোলা,শিমজাতীয় খাবার,সবুজ শাক এবং প্রাণিজ খাবার উপকারী। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল আয়রন শোষণে সাহায্য করে।ছয় মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি উপযুক্ত পরিপূরক খাবার শুরু করা প্রয়োজন।
সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ
শিশুর ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ,বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি যাচাই, সময়মতো টিকাকরণ এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সিরাপ বা অন্য কোনও ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।
শিশুর অপুষ্টি ও রক্তাল্পতা অবহেলা করার বিষয় নয়। সঠিক পুষ্টি, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে বহু ক্ষেত্রেই এই সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব।শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
