
তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সম্ভাবনা। আইসা (AISA)-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি-বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি নতুন করে সক্রিয় হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতিতে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার। এই পরিস্থিতিতে নেহা বোরার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত,ছাত্রস্বার্থ,শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে সংগঠনগুলি। নতুন সরকারের নীতির সঙ্গে তাদের অবস্থানের সংঘাত তৈরি হলে ফের ক্যাম্পাসে আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অন্য দিকে,যাদবপুরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির রাজনৈতিক অবস্থানের মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। ফলে একই ক্যাম্পাসে দুই বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে এখনই কোনও সংঘাত অবশ্যম্ভাবী,এমনটা বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।নেহা বোরার হুঁশিয়ারির পর অবশ্য বিষয়টিকে হালকা ভাবে দেখতে নারাজ শাসকদল। বিশেষ করে নকশালপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পক্ষের আন্দোলন যাতে সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার দিকে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।নেহার বক্তব্যের পর যাদবপুরে ছাত্র সংগঠনগুলির পরবর্তী কর্মসূচি কী হয়, তা এখন দেখার। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়লে শাসকপন্থী এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পারস্পরিক অবস্থানও আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে পুজোর মরসুমের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতিরও।
