সিভিকদের জন্য লালবাজারের নয়া নিয়ম!৭ দিন অনুপস্থিত থাকলেই নোটিস,আরও কী নির্দেশ?
কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নয়া আচরণবিধি। তিন মাস অন্তর কাজের রিপোর্ট,দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গে ব্যবস্থা, ৭ দিন অনুপস্থিত থাকলে নোটিস।
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত: সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজকর্মে শৃঙ্খলা ও নজরদারি বাড়াতে নতুন আচরণবিধি জারি করল কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে,কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দার স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের দায়িত্ব পালন,উপস্থিতি এবং আচরণ সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা বা ইউনিটের ইন-চার্জ তাঁদের আচরণ ও কাজের রিপোর্ট তৈরি করে ডেপুটি কমিশনার (হোমগার্ড)-এর কাছে জমা দেবেন।
ঘুষ নেওয়া, চাঁদা আদায়, দায়িত্বে গাফিলতি, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার অথবা কোনও ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ানোর মতো অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেনশন বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যজনিত বা শারীরিক সমস্যার কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম করা হয়েছে। কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার টানা সাত দিন না জানিয়ে কাজে অনুপস্থিত থাকলে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নোটিস পাঠানো হবে। এরপর আরও সাত দিন সময় দেওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হবে। তারপরও কাজে যোগ না দিলে বা উপযুক্ত কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। লালবাজারের এই পদক্ষেপের ফলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের উপর নজরদারি এবং জবাবদিহি আরও বাড়তে চলেছে।
