
জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ বাড়ানোর নির্দেশ দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ডিজিটাল সংগঠন “ফ্যাম” রবিবার দক্ষিণ কলকাতার এক বৈঠকে বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেয়।
সভায় পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী স্পষ্ট বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে বিরোধীরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। অনেকেই চুপ করে দেখছেন, এটা চলবে না। যুক্তি দিয়ে উত্তর দিতে না পারলেও অন্তত ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ বা ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ লিখুন।” সভায় উপস্থিত ফ্যামের শীর্ষ নেতৃত্বও মনে করিয়ে দেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লে তার প্রভাব ভোটের বাক্সেও পড়বে।”
সভায় রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি এবং বিরোধী শিবির সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক ন্যারেটিভ তৈরি করছে। ৯০ শতাংশ কনটেন্ট ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে বানানো। এর মোকাবিলা করতে হবে।”
তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সংগঠন “ফ্যাম” ২০২৬ নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে বড়সড় রদবদল আনছে। নতুন সাংগঠনিক কাঠামোতে “এক ব্যক্তি, এক পদ” নীতি কার্যকর করা হয়েছে। প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তাপস সাধুখাকে সভাপতি, কৌশিক চক্রবর্তীকে সহ-সভাপতি এবং রিয়া দে মল্লিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া, ২৩টি জেলার জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে ডিজিটাল প্রচার আরও সুশৃঙ্খল হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া কনক্লেভের আয়োজন করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমে কনক্লেভ হবে, যেখানে “ফ্যাম”-এর হলুদ ব্র্যান্ডিং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রচার চালানো হবে। এছাড়া, ২০২৬ নির্বাচনের আগে ফ্যামের জন্য বিশেষ গান তৈরি করবেন নচিকেতা চক্রবর্তী।
বৈঠকের শেষে ফ্যামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বিজেপি এবং বিরোধী শিবির সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা পাল্টা জবাব দেব। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সঠিক প্রচারের জন্য আরও তথ্যনির্ভর কনটেন্ট তৈরি করা হবে।”
দলীয় নেতৃত্বের মতে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে সোশ্যাল মিডিয়া হবে অন্যতম প্রধান অস্ত্র। তাই তৃণমূলের ডিজিটাল বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক হতে হবে।
