কলকাতা পুরভোটের আগে ৭০টি ওয়ার্ডে মহিলা সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ। ৬৬টি সাধারণ মহিলা এবং ৪টি ওয়ার্ড তফসিলি জাতির মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
দেবাশীষ সেনগুপ্ত,মানুষের মতামত:পুরভোটের দামামা কি তবে বেজেই গেল? কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই ভোটের প্রস্তুতিতে নতুন গতি এল। বুধবার রাতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার মোট ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে। এর মধ্যে ৬৬টি ওয়ার্ড সাধারণ মহিলাদের জন্য এবং চারটি ওয়ার্ড তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। খসড়া তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় কিছু রদবদলও হয়েছে।
চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে শুরু হতে চলেছে নতুন করে হিসাবনিকাশ। কোন ওয়ার্ডে পুরনো কাউন্সিলর বা সম্ভাব্য প্রার্থী আর লড়তে পারবেন না, কোথায় নতুন মুখকে সামনে আনতে হবে-তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। বিশেষ করে সংরক্ষণের কারণে যেসব ওয়ার্ডে প্রার্থী বদলের প্রয়োজন হবে, সেখানে দলগুলির প্রার্থী বাছাইয়ের সমীকরণও বদলাতে পারে।১৯৯৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন আইন মেনেই সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারির তরফে ‘ফর্ম বি’-র ৩ ও ৪ নম্বর ধারা অনুসরণ করে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা নিয়ে যে অপেক্ষা ছিল, বুধবার রাতে তার অবসান হল।
এ দিকে, কলকাতা ও হাওড়া-দুই শহরেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ২৮ অথবা ২৯ শে নভেম্বর কলকাতা ও হাওড়ায় ভোট করানোর সম্ভাব্য দিন ধরে প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।তবে মহিলা সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং সম্ভাব্য ভোটের দিন ঘিরে জল্পনা-দুইয়ে মিলে কলকাতা পুরভোটের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ৭০টি ওয়ার্ডে সংরক্ষণের নতুন সমীকরণে কোন দল কাকে প্রার্থী করবে, কোন পুরনো মুখকে সরে দাঁড়াতে হবে, আর কোথায় নতুন মুখ উঠে আসবে-সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
এখন অপেক্ষা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট ঘোষণার। সংরক্ষণের তালিকা চূড়ান্ত, সম্ভাব্য ভোটের দিন নিয়েও প্রস্তুতি শুরু-ফলে কলকাতা পুরভোটের কাউন্টডাউন কার্যত শুরু হয়ে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
