রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জ্বর কমার পরেও কেন বাড়ে ঝুঁকি, কোন উপসর্গ বিপদসংকেত এবং কখন কোন ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত—জানাল স্বাস্থ্যভবনের নতুন নির্দেশিকা।
দেবাশীষ সেনগুপ্ত,মানুষের মতামত:রাজ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিদিনই দেড়শোর বেশি নতুন রোগী মিলছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ মুর্শিদাবাদে। এরপরেই রয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি-সহ একাধিক জেলা। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম তিন থেকে পাঁচ দিন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে। রোগীর প্রস্রাব, ঘুম, খিঁচুনি বা অন্য কোনও শারীরিক পরিবর্তনের উপর নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর পরিবারের সদস্যদের পেটে ব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের যে কোনও অংশ থেকে রক্তপাতের মতো ‘বিপদসংকেত’ সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর আসল ঝুঁকি অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়। তাই জ্বর সেরে গেলেও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যভবন নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। জ্বরের প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু নির্ণয়ে এনএস-১ অ্যান্টিজেন এলাইজা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলে আইজিএম পরীক্ষা করতে হবে। শুধু দ্রুত ফল পাওয়ার কিট পরীক্ষার উপর নির্ভর না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জ্বর ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে শুধু ডেঙ্গু নয়, লেপ্টোস্পাইরোসিস বা স্ক্রাব টাইফাসের মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল-জনিত সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্লেটলেট নিয়েও অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, অণুচক্রিকার সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে না নামলে সাধারণত প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, দিনের বেলাতেও মশার কামড় এড়াতে ফুলহাতা পোশাক পরা এবং শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রধান উপায়।

