
তাপস চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর দেখা গেল টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবিরের সক্রিয়তা নিয়ে উঠল একাধিক প্রশ্ন। কোথাও অভিযোগ নিয়ে ছুটতে দেখা গেল প্রার্থীকে, কোথাও আবার ভোটের মাঝেই গ্রেফতার হলেন এক রাজনৈতিক নেতা। সব মিলিয়ে দুই কেন্দ্রের ভোটে শাসক-বিরোধী লড়াইয়ের ছবিতে কার্যত একতরফা পরিস্থিতিই দেখা গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ভোটগ্রহণ চলাকালীন একাধিক অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে দেখা যায়। ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে অন্যান্য বিরোধী প্রার্থীদের তেমন ভাবে ময়দানে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।রেজিনগরে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন মেজাজ হারানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। অন্য দিকে, ভোটের একবেলা কাটতে না কাটতেই হাতেগোনা দলীয় কর্মীদের নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভে বসেন কংগ্রেস প্রার্থী। ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান তিনি।
রেজিনগরে দুই তৃণমূল শিবিরের প্রার্থীর অবস্থানও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজমান শেখ এবং মমতা-পন্থী তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী—দু’জনেই ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক বুথে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেনি নির্বাচন কমিশন।দুই কেন্দ্রেই বামফ্রন্টের প্রার্থীদের তেমন সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। ভোটের দিন তাঁদের প্রচার বা সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলক ভাবে কম ছিল।
অন্য দিকে, ভোটের দিন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারকে তুলনামূলক ভাবে শান্ত মেজাজে দেখা গিয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে তাঁরা নিজেদের ভোটপর্বে মনোযোগী ছিলেন।এখন দুই কেন্দ্রের অভিযোগগুলি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে খতিয়ে দেখে এবং ৯ অক্টোবর ফলাফলে ভোটারদের রায় কোন দিকে যায়,সেটাই দেখার। ভোটের দিনের রাজনৈতিক ছবি শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়,তার উত্তর মিলবে গণনার দিন।
