নদীভাঙন নয়, ভূমিধসের আশঙ্কাও! ফরাক্কা-লালগোলার প্রায় ৪০ কিমি এলাকায় কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
ফরাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিমি এলাকায় গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন ও ভূমিধসের আশঙ্কা। নদীভাঙন রুখতে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব ঘিরে নজর মুর্শিদাবাদে।
আমিনুল ইসলাম, মানুষের মতামত:মুর্শিদাবাদ ও মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা। ফরাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার অঞ্চলকে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কালিয়াচক,মানিকচক, সামশেরগঞ্জ,ধুলিয়ান, লালগোলা ও আখেরিগঞ্জের একাধিক এলাকায় গঙ্গা-পদ্মার ভাঙনে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু নদীভাঙনে সীমাবদ্ধ নয়, কোথাও কোথাও ভূমিধস বা ‘ল্যান্ড সাবসিডেন্স’-এর ঝুঁকিও রয়েছে।
গত পাঁচ বছরে সামশেরগঞ্জেই গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মসজিদ এবং প্রায় ৪ হাজার বিঘা আমবাগান বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালির বস্তা ও বাঁশের পাইলিংয়ের মতো অস্থায়ী ব্যবস্থায় প্রতি বছর বিপুল অর্থ খরচ হলেও বর্ষায় তার বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে জুলাইয়ে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের নদীভাঙন রুখতে ৩,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাবের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সমানভাবে অর্থ বহন করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর পুনর্বাসন জরুরি।
