
জিৎ দত্ত,মানুষের মতামত:শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে ফের পথে নামল ডিওয়াইএফআই। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ডিওয়াইএফআই-র এই প্রতিবাদ মিছিল শেষ হয় ধর্মতলার দিনেশ মজুমদার ভবনের সামনে। মিছিলে অংশ নেওয়া শতাধিক কর্মী-সমর্থক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলেন।
ডিওয়াইএফআই-র কলকাতা জোনের সম্পাদকা পৌলমী সাহা বলেন, “এই নিয়োগ দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি। হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী আজ চাকরি হারিয়ে পথে। তাঁরা শুধু দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের বলি হয়েছেন। এর দায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই মিছিল কোনও রাজনৈতিক গিমিক নয়। এটা সেই বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর লড়াই। যাঁরা আদালতের রায়ে চাকরি হারালেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু সাংবাদিক বৈঠক করছেন, কিন্তু প্রার্থীদের হাতে কি তিনি চাকরি ফিরিয়ে দিতে পারবেন?”
ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের সাফ কথা, এই আন্দোলনের লক্ষ্য কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা নয়। বরং যারা চাকরি হারিয়েছে, তারাই এবার মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জবাব চাইবে— কে ফিরিয়ে দেবে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন?
পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে ব্রাত্য বসু— নেতাদের নাম নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন ডিওয়াইএফআই নেতারা। তাঁদের দাবি, “দুর্নীতির দায় একদিনে তৈরি হয়নি। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে মদত না থাকলে এই দুর্নীতি এত দূর গড়াত না।”
রাজ্যজুড়ে যখন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে চরম উত্তেজনা, তখন ডিওয়াইএফআই-র এই মিছিল শুধুই রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়— বরং এক সামাজিক প্রতিবাদের বার্তাও বয়ে নিয়ে এল। এখন দেখার, সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
