রবিবার, অক্টোবর 25, 2026
15:54:26 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

মোবাইলের নেশায় বিপন্ন শৈশব?শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে কতটা প্রভাব ফেলছে স্ক্রিন!

ঘুম,মনোযোগ থেকে ভাষা শেখা—অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে বাড়ছে উদ্বেগ,বয়স বুঝে সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত:স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের হাতেও ক্রমশ বাড়ছে মোবাইলের ব্যবহার। খাওয়ানোর সময়, কান্না থামাতে কিংবা শিশুকে ব্যস্ত রাখতে অনেক অভিভাবকই মোবাইলের পর্দায় কার্টুন বা ভিডিও চালিয়ে দেন। কিন্তু এই অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, ঘুম, মনোযোগ এবং ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শৈশব মস্তিষ্কের বিকাশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে শিশুরা মূলত কথা বলা, খেলাধুলা, চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে শেখে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের পর্দায় চোখ আটকে থাকলে এসব স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ভাষা বিকাশে দেরি, মনোযোগের সমস্যা এবং ঘুমের অনিয়মের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়।

ঘুমের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে মোবাইল। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ভিডিও দেখা শিশুর ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন শিশুর মেজাজ, শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে একই প্রভাব পড়ে না। কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার হচ্ছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সি শিশুর স্ক্রিন ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না। এক বছর বয়সেও বসে বসে স্ক্রিন দেখার পরামর্শ নেই। ২ থেকে ৪ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা, তার চেয়ে কম হলে আরও ভালো। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সঙ্গে বেছে নেওয়া মানসম্মত কনটেন্ট দেখার উপর গুরুত্ব দেয়।

শিশুকে মোবাইল থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখাই একমাত্র সমাধান নয়। বরং নির্দিষ্ট সময়সীমা, বয়সোপযোগী কনটেন্ট, পরিবারের সঙ্গে গল্প বলা, বই পড়া, খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিশুর ভাষা শেখা বা মনোযোগ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, মোবাইল সাময়িকভাবে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো তার বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন