অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারত ও চীনের সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কংগ্রেস।
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান চলছে। চীনা সেনারা নির্ধারিত টহলপথ থেকে সরে এলে ভারত-চীন সীমান্তে মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।সম্প্রতি অরুণাচলে কয়েকটি স্থানে চীনা সেনাদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানান ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।২৩ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, অরুণাচলের কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল দিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে চীন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য জরুরি। তবে অরুণাচলের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে তারা।অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার টাকসিং এলাকায় কয়েক মাস ধরেই ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার খবর আসছিল।গত সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়। ভারতের কিবিথু সেক্টরের ওয়াচা-দামাই সীমান্ত বৈঠকস্থলে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়।তবে বৈঠকের পরও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে ভারত ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেছেন, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলপথ থেকে সরে গেলে ভারত-চীন সীমান্তে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।তিনি আরও বলেন, সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছে।প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও ভালো বোঝাপড়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। জয়সওয়াল বলেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য জরুরি।তবে অরুণাচলের কোন কোন স্থানে মুখোমুখি অবস্থান চলছে, কিংবা সেখানে ঠিক কী ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি জানতে চেয়েছে, চীন অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল দিতে বাধা দিচ্ছে কি না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও ব্যাখ্যা দাবি করেছে তারা।কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, গালওয়ানের পর এবার অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে উদ্বেগজনক খবর সামনে আসছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে দ্রুত উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ওই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর সংকটে ফেলে।এরপর সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক অরুণাচল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।
