অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র নিয়ে নতুন স্পষ্টীকরণ পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের। AYUSH চিকিৎসকদের স্বীকৃত যোগ্যতা, বৈধ নিবন্ধন ও আইনগত অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রবীর পাঞ্জা,মানুষের মতামত:অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র প্রদান নিয়ে যোগ্যতা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ জারি করল পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলা রেজিস্ট্রার, পুরসভার কমিশনার এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬-এর ৫(৪) নম্বর বিধিতে অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়ার জন্য ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি ও হোমিওপ্যাথিতে অন্তত একটি ডিগ্রি থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ‘অন্তত একটি ডিগ্রি’ কথাটির ব্যাখ্যা নিয়ে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে, সেই বিষয়টিই নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘অন্তত একটি ডিগ্রি’ কথাটি আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যে যোগ্যতা স্বীকৃত, সেই যোগ্যতাকেই বিবেচনা করতে হবে।এক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতিতে স্বীকৃত যোগ্যতা থাকার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য চিকিৎসক নিবন্ধনে বৈধ নথিভুক্তি থাকতে হবে। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী চিকিৎসা করার অনুমোদনও থাকা আবশ্যক।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ আইনের ১০ নম্বর ধারা, ২০২৩ সালের সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র সংশ্লিষ্ট যোগ্য চিকিৎসকই প্রদান করতে পারবেন।অর্থাৎ, শুধু কোনও ডিগ্রি থাকলেই মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈধ চিকিৎসক-নিবন্ধন এবং আইন অনুযায়ী চিকিৎসা করার অধিকার—এই তিনটি বিষয়ই বিবেচনা করা হবে।রাজ্যের সমস্ত জেলা রেজিস্ট্রারকে এই স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী অভিন্ন পদ্ধতিতে নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র প্রদান নিয়ে যে যোগ্যতা-সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, নতুন নির্দেশিকায় তারই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
