নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বিজেপির জয়ের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা। ভোটে অনিয়ম ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। গণনার আগে কী ইঙ্গিত মিলছে?
দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত: আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগণনা এবং ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা। ফল ঘোষণার আগেই বিজেপি শিবিরের একাধিক নেতা জয়ের বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতার বক্তব্য এবং ভোট নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।বিজেপির তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা আগাম জয়ের দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির রেজিনগরে ভোটে কারচুপি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রেজিনগরের মানুষ অবাধে ভোট দিতে পারেননি।
গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রুজ জামানও ভোটকে ‘প্রহসন’ বলে অভিযোগ করেছেন। সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস,এসইউসি এবং আইএসএফের তরফেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীরও অভিযোগ, পুলিশকে ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার পুনরায় ভোট নেওয়ার দাবি তুলেছেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই দাবিতে সাড়া মেলেনি।
এদিকে, ফল ঘোষণার আগেই বিজেপির জয় নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, নন্দীগ্রামে বিজেপি বড় ব্যবধানে এবং রেজিনগরেও ভালো ফল করতে পারে। তবে চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোটগণনার পরেই।অন্যদিকে, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপির একাংশের বক্তব্য, তাঁরা অবাধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন চেয়েছিলেন। তাঁদের মতে, এই নির্বাচন সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকৃত ছবি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল। অভিযোগের রাজনীতি এভাবে চলতে থাকলে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব অতীতের বিরোধী দলগুলির পথেই হাঁটছে কি না, তা নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে।
