বুধবার, সেপ্টেম্বর 30, 2026
04:31:15 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

তৃণমূলের ‘হারানো’ ভোট কি এবার বামেদের টার্গেট?পুরভোট ঘিরে আলিমুদ্দিনে নতুন পরিকল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর পুরভোটকে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসেবে দেখছে সিপিএম। তৃণমূলের হারানো ভোটের একটি অংশ নিজেদের দিকে টানাই এখন বামেদের অন্যতম লক্ষ্য।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এ বার পুরভোটকে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসাবে দেখছে সিপিএম। আর সেই লড়াইয়ে দলের মূল নজর তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের দিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে যাওয়া ভোটের অঙ্কের পাশাপাশি তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়া ধর্মনিরপেক্ষ ভোটের একটি অংশ নিজেদের দিকে টেনে আনতে চাইছে বামেরা। দলের অন্দরের হিসাব, পুরভোটে সেই ভোটের একটা অংশ নিজেদের দিকে আনতে পারলে দীর্ঘদিন পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের কার্যকর বিরোধী শক্তি হিসাবে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূলকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। একই সঙ্গে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ভোটভিত্তিতেও পরিবর্তনের ছবি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় তৃণমূলের ভোটে বিভাজনের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন নির্বাচনী বিশ্লেষণে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলায় কংগ্রেস, বাম এবং অন্যান্য দলের দিকে মুসলিম ভোটের একাংশ যাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।এই পরিস্থিতিকেই পুরভোটের আগে কাজে লাগাতে চাইছে সিপিএম। দলের নেতাদের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বামেদের সামনে নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেছে। কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক ভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধী তৃণমূল শিবিরের তরফে ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

সিপিএমের কৌশলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সেখানে ধারাবাহিক প্রচার চালানো গেলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশকে বামেদের দিকে ফেরানো সম্ভব হতে পারে। সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বামেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, বামেরা ধর্মের বিরোধিতা করে না, ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করে।তবে সিপিএমের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট একক ভাবে কোনও একটি দলের দিকে যায়নি—এমন বিশ্লেষণই প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে পুরভোটে সেই ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে গেলে শুধু বিজেপি-বিরোধিতা নয়, স্থানীয় স্তরে সংগঠন, প্রার্থী এবং পুর পরিষেবার প্রশ্নকেও সামনে আনতে হবে।

তার উপর বিজেপিও পুরভোটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে একাই লড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। ফলে একদিকে বিজেপির নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র, অন্যদিকে বিভক্ত তৃণমূল—এই দুইয়ের মাঝখানে নিজেদের জায়গা তৈরি করাই সিপিএমের বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।তৃণমূলের ভোটের কতটা অংশ বামেরা নিজেদের দিকে টানতে পারে, আর সেই ভোটকে সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত করতে পারে কি না—পুরভোটের ফলেই তার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে। তবে আপাতত সিপিএমের লক্ষ্য স্পষ্ট—তৃণমূলের হারানো ভোটের একটি অংশকে নিজেদের দিকে এনে রাজ্য রাজনীতিতে ফের সক্রিয় বিরোধী শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা।

Share with

আরো পড়ুন -