পশ্চিমবঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতি খুন, দিনহাটায় হামলার অভিযোগ এবং নারকেলডাঙায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
প্রবীর পাঞ্জা,মানুষের মতামত:পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনেকেই আশা করেছিলেন, বদলাবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, কমবে হিংসা ও আতঙ্ক। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সেই আশাকেই ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা, গুলি ও হিংসার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
খড়গপুরে বিজেপির দুই কর্মী খুনের ঘটনার পর বীরভূমের বোলপুর শহরে বিজেপির এক বুথ সভাপতিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দিনহাটাতেও এক বিজেপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। যদিও কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাগুলিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং এলাকায় দখলদারির রাজনীতির ফল বলে দাবি করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে বিজেপি নেতা নিতিন নবীন দলের মন্ত্রী, বিধায়ক ও নেতাদের হিংসা, আতঙ্ক এবং হুমকির রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই রাজ্যে হিংসার রাজনীতি বরদাস্ত করা উচিত নয়। পাশাপাশি, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত অসামাজিক বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিজেপিতে যোগদানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, কলকাতার নারকেলডাঙায় তৃণমূলের মুখ্য মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন একটাই—ক্ষমতার পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত শান্তি ও নিরাপত্তা কি সত্যিই ফিরছে? নাকি রাজনৈতিক সংঘর্ষের পুরনো ছবিই নতুন রূপে সামনে আসছে?
