তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ ভাঙন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০ সাংসদের NCPI-তে যোগ, রাজ্যসভায় একাধিক পদত্যাগ—দলীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে?
প্রবীর পাঞ্জা,মানুষের মতামত:নিজের দলেই বিদ্রোহ, বিধায়কদের পৃথক ব্লক, সাংসদদের দলবদল—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটে কার্যত জেরবার দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ করাই এখন মমতার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মে মাসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দল সামলাতে গিয়ে একের পর এক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
দলের ৬৩ জন বিধায়ক নিজেদের মতো করে পৃথক ব্লক গঠন করে প্রথমে তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।পরে তাঁরা নিজেদেরই ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি করেন।এই বিদ্রোহের জেরে দল কার্যত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে। তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন নাম—‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’—নিয়ে ফের রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে হয়েছে মমতাকে।
তবে নাম বদলালেও দলের ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন।এই দলবদল মমতার নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।লোকসভায় দলের সাংসদ সংখ্যা কমে যাওয়ায় সংসদীয় রাজনীতিতেও তৃণমূলের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থন নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। দলের ১৩ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৩ জন পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় চলে গিয়েছেন। ফলে উচ্চকক্ষেও তৃণমূলের শক্তি কমেছে। এরই মধ্যে কৌশিক মল্লিক রাজ্যসভা আসন থেকে তৃণমূলের তরফে ইস্তফা দেওয়ায় দলবদলের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে বিজেপির বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে লড়াই করবেন? দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এবং একের পর এক দলবদলের ঘটনায় আপাতত তৃণমূলের প্রধান লড়াই বাইরের প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, দলের অন্দরেই। ফলে মমতার সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ দলকে ফের এক ছাতার তলায় আনা এবং সংগঠনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
