বুধবার, সেপ্টেম্বর 30, 2026
03:50:04 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

খাবারের বরাদ্দ বাড়ল, নজরদারিও বাড়ছে!তবু সরকারি হাসপাতালে রোগীর ভোগান্তি—প্রশ্ন, ‘আর কতদিন?’

সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে,বাড়ছে নজরদারিও।তবু চিকিৎসা,পরিষেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অপেক্ষার সময় নিয়ে রোগীর পরিজনদের অভিযোগ ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।

প্রবীর পাঞ্জা,মানুষের মতামত:সরকার বদলেছে। বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার,বদলেছে স্বাস্থ্য দফতরের নেতৃত্বও। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার বাস্তব চিত্রে এখনও বড়সড় পরিবর্তন চোখে পড়ছে না—এমনই অভিযোগ চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের আত্মীয়দের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, নতুন সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও পূরণ হয়নি।

মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব পান চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, হাসপাতালের পরিষেবা এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য দফতর রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে এবং পরিষেবার একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়।নতুন সরকারের অন্যতম দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি। আগে রোগী পিছু দৈনিক খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। ১ অগস্ট থেকে তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল রোগীদের খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ বাড়ানো। আদালতের নির্দেশের পর গঠিত কমিটির বাজারদর পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে রোগীদের আত্মীয়দের অভিযোগ, খাবারের বরাদ্দ বাড়লেই হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবার উন্নতি নিশ্চিত হয় না। বহু হাসপাতালে চিকিৎসকের অপেক্ষা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়, ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং রোগীর পরিজনদের হয়রানির মতো পুরনো সমস্যাগুলির সমাধান এখনও স্পষ্ট নয় বলে তাঁদের দাবি। বিশেষ করে জেলা হাসপাতাল ও মহকুমা স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে।অন্য দিকে, সরকারের তরফে হাসপাতালগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে লাইভ সিসিটিভি-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে। রান্নাঘর, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পার্কিং এলাকা এবং ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপের উপরও নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে নতুন ক্যাথ ল্যাব ও ইসিজি মেশিন বসানোর কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য দফতরের সামনে তাই এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ। পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি, দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রোগীর পরিজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়—সব ক্ষেত্রেই নজর দেওয়ার দাবি উঠছে। সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার উপরই নির্ভর করবে বদলের ছবি কতটা স্পষ্ট হয়। এবং সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা ফিরে আসে।ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বদলের উদ্যোগ যে একেবারেই নেই, তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু সেই উদ্যোগের সুফল সাধারণ রোগীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় কতটা পৌঁছচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। রোগীদের আত্মীয়দের একাংশ বলছেন, নতুন সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সমস্যা একসঙ্গে মেটানো সম্ভব নয়। তবে সময়ের সঙ্গে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং হাসপাতালের পরিষেবায় দৃশ্যমান উন্নতি চান তাঁরা।

Share with

আরো পড়ুন -