নাগপুরে আরএসএসের বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘রেজিম চেঞ্জ’, গণআন্দোলন এবং বিরোধীদের প্রতিবাদের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত:দেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বেকারত্ব,মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সংবিধান রক্ষার মতো বিষয়কে সামনে রেখে বিরোধীদের আন্দোলন শাসক শিবিরের কাছে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তন এবং হিংসাত্মক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভারতের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বিদেশি শক্তি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তির যৌথ ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ থাকা জরুরি।
শ্রীলঙ্কা,বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশের রাজনৈতিক পালাবদল ভারতের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয়। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল শক্তি মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ।অন্যদিকে, শাসক শিবিরের আশঙ্কা বলে যে ব্যাখ্যা সামনে আসছে,তার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী গণআন্দোলনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব।
বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কিন্তু লাগাতার জনবিক্ষোভ,ধর্মঘট এবং নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।প্রশান্ত ভূষণের মতো অধিকারকর্মীদের আইনি ও সামাজিক উদ্যোগও সরকারি নীতি নিয়ে বিতর্ককে জিইয়ে রাখছে। প্রশ্ন উঠছে,আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলবে? মোহন ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে। তবে গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিক অধিকারেরই অংশ।
