ওয়াক্ফ সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিআইবি
বিশেষ সংবাদদাতা,মানুষের মতামত: পশ্চিমবাংলার শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সমাজের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়ালস অব বেঙ্গল (PIB)-র সভাপতি ড. মানাজাত আলি বিশ্বাস ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে ওয়াক্ফ (সংশোধন) আইন, ২০২৫–এর বিরুদ্ধে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। তিনি এই সংশোধনীকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সংশোধনী আইন সমতার অধিকার (Article 14) লঙ্ঘন করছে, কারণ এতে অমুসলিমদের ওয়াক্ফ বোর্ডে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে এবং মুসলিম সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপ করা হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক ও অনিয়মতান্ত্রিক,যা অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া, রিটে বলা হয়েছে এই আইন ধর্মীয় বৈষম্য করছে (Article 15), কারণ শুধু মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তির উপরই অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন চাপানো হয়েছে। অন্য ধর্মের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়নি,তাই এখানে বৈষম্য স্পষ্ট।
অরাজনৈতিক সংগঠন পিআইবির তরফে পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, সংশোধনীটি মতপ্রকাশ ও সংঘ গঠনের স্বাধীনতা (Article 19) খর্ব করে, কারণ এতে অমুসলিমদের ওয়াক্ফে দান নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মুসলিম দাতাকে ইসলাম চর্চার পাঁচ বছরের প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। এধরনের বিধান ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী।
ধর্মাচরণের অধিকার (Articles 21, 25, 26) লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওয়াক্ফ সম্পত্তির সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো মুসলিম ধর্মীয় রীতিনীতির ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। একইসঙ্গে,সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত অধিকার (Articles 29 ও 30) ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, পিটিশনে সম্পত্তির অধিকার (Article 300A) লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, সরকার একতরফাভাবে কোনো ওয়াক্ফ সম্পত্তিকে ‘অ-ওয়াক্ফ’ বলে ঘোষণা করতে পারবে,যা সংবিধানের মৌলিক নীতিমালার বিরুদ্ধে।
রিটকারীর মতে,এই সংশোধনী আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা,সংখ্যালঘু অধিকার ও ন্যায়বিচারের মূল চেতনাকে আঘাত করে। সুপ্রিম কোর্টের রায় এই বিষয়ে শুধু ওয়াক্ফ ব্যবস্থাপনা নয়,বরং বৃহত্তর সাংবিধানিক মূল্যবোধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভারতীয় সংবিধান কে সমুন্নত রাখার জন্য এই কালা কানুন কোনভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয়। প্রান্তিক মানুষজনের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য এই বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দীর্ঘ মেয়াদী গণ আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী কারণ এই ওয়াকফ সংশোধনী আইন এক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সূচনা বলে মনে করেন পিআইবি-র সভাপতি অধ্যাপক মানাজাত আলি বিশ্বাস!