Feature NewsNewsPublic Interest NewsRecent News

রাজ্যের থানাগুলির বেহাল দশা, জনবল-গাড়ি-আবাসন সংকটে বিপর্যস্ত পুলিশ, প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন!

নাজমুল হাসান,মানুষের মতামত: সমাজের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত পুলিশ বাহিনী প্রতিদিন মানুষের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলালেও রাজ্যের একাধিক থানায় উঠে এসেছে অব্যবস্থার চিত্র। অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে নতুন সরকারি গাড়ি সরবরাহ না হওয়ায় পুরোনো ও ভগ্নপ্রায় যানবাহন দিয়েই চলছে থানার জরুরি কাজকর্ম। অনেক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে অপরাধী ধরতে বা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

একই সঙ্গে থানার আবাসন ব্যবস্থার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়।বহু বছর ধরে কোনও বড় সংস্কার না হওয়ায় জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে পুলিশ কর্মী ও তাদের পরিবারকে।পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সুবিধার অভাবে দীর্ঘ ও চাপযুক্ত ডিউটি শেষে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

অভিযোগ,প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবলও অনেক ক্ষেত্রে নেই, ফলে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ডিউটি করতে বাধ্য হচ্ছেন অফিসার থেকে শুরু করে নীচু তলার কর্মীরা।এতে কাজের গতি ও মান দু’টিই প্রভাবিত হচ্ছে বলে দাবি।

এই পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। শাসকদল বিজেপির অভিযোগ,দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অবহেলা ও দুর্নীতির ফলেই থানাগুলোর এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি,পর্যাপ্ত গাড়ি, আবাসন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ব্যর্থতাই পুলিশ বাহিনীকে সমস্যায় ফেলছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য,তাদের শাসনামলে পরিকাঠামোর যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়েছে, কিন্তু বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছেন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক মহলের এক অংশ।

এখন বর্তমান সরকারের উপরই দৃষ্টি,তারা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় গাড়ি, আবাসন ও জনবল ঘাটতি পূরণ করে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করে তোলে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্প্রতি বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের বাড়তি সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের বলিষ্ঠ আইপিএস সূত্রে জানা গেছে,মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকনির্দেশে পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে “ওপেন হ্যান্ড” বা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ফলে রাজ্যজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কড়া নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে বলে একাংশের মত। তবে এই বিষয়ে সরকারি তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *