সদ্য হেলা নয়,অনেক আগে থেকেই হেলে রয়েছে বাড়িগুলো ,উদ্বেগ কলকাতা পুরসভার
নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক হেলে পড়া বাড়ি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। বাঘাযতীন, ট্যাংরা, তপসিয়া—এখন বোসপুকুরে দেখা দিল একই সমস্যা। শনিবার সকালে বোসপুকুরের বেদিয়াডাঙা মসজিদ বাড়ি লেনে দু’টি বহুতল পরস্পরের দিকে হেলে রয়েছে বলে খবর প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু পুরনো এই বহুতলগুলি গত চার বছর ধরে একে অপরের দিকে হেলে রয়েছে। এই সময়কালে বহুতলের দেওয়ালে ক্রমাগত ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেই ফাটল আরও গুরুতর আকার নিচ্ছে। এই ঘটনা দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও, এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভার কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন নতুন করে খবর সামনে আসায় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কেন বাড়ি হেলে পড়ছে?
পুরনো বাড়ি হওয়ায় এগুলোর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এলাকার ভূগর্ভস্থ জলস্তর পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও বড় কারণ হতে পারে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই সমস্যার কথা তাঁরা আগে থেকেই জানতেন। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রয়োজন অনুভব করেননি। তাঁদের মতে, পুরসভা নিজে থেকেই বিষয়টি নজরে আনবে। তবে, ফাটল বাড়ার কারণে বর্তমানে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পুরসভার অবস্থান
কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হেলে পড়া বাড়ি নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগ এই ধরনের বাড়ি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে, এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসেনি।
সম্ভাব্য সমাধান
1. নির্মাণের গুণমান পরীক্ষা: নির্মাণের সময় ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণমান পরীক্ষা করা এবং পুরনো বাড়ির পুনর্গঠন।
2. রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা: পুরনো বাড়ির মালিকদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া।
3. পুরসভার উদ্যোগ: হেলে পড়া বাড়িগুলি চিহ্নিত করে তা সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।
4. জরুরি সরিয়ে নেওয়া: গুরুতর অবস্থায় থাকা বাড়িগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আরও বাড়ি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ এবং বাসিন্দাদের সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।