নজরদারি ও ঘোষণার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন তৈরি করে সর্বত্র চর্চায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার
সোহেল চক্রবর্তী,মানুষের মতামত:এবারে বিক্ষোভ বা অযাচিত কোন ঝামেলার মোকাবিলা করবে ড্রোন। এমনকি উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতেও ঘোষণা করবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন।রাজ্যে এই ঘোষক ড্রোন তৈরি করে রীতিমতো শিরোনামে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার আইপিএস ধৃতিমান সরকার।মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফ থেকে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অত্যাধুনিক এই ড্রোনের উদ্বোধন হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার’মানুষের মতামত’কে জানান, এটা সম্পূর্ণরূপে তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইন শৃঙ্খলা জনিত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভাবছিলেন। প্রযুক্তিকে উন্নত করে নজরদারি কিভাবে বাড়ানো যায়,তারই পরিকল্পনা স্বরূপ এটি।
কীভাবে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে,তথ্যসহ উল্লেখ করেন ধৃতিমান সরকার। তিনি বলেন, ঘোষক ড্রোনটিতে অত্যাধুনিক HQ 130DB সাউন্ড সিস্টেম, ব্যবহার করেছেন যা তাইওয়ান থেকে সংগ্রহ করেছেন। হংকং থেকে আনা হয়েছে রোটর এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করেছেন সরাসরি ঘোষণার জন্য। চার কিলোমিটার এরিয়াল রেঞ্জ এবং এর সঙ্গে একটি 4k ক্যামেরা যুক্ত রয়েছে।
পুলিশ সুপার ধৃতিমান আরো বলেন,“যখন বড় কোনও জমায়েত হয়,তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি মানুষকে সতর্ক করার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও আমরা এই ড্রোন ব্যবহার করে মানুষকে আরও সতর্ক করতে পারি। গত ছ’মাস ধরে স্থানীয় স্তরে গবেষণার পর এটা তৈরি করেছি।’’
মূলত হ্যান্ডমাইক নিয়েই বিক্ষোভ বা গন্ডগোল সরাতে ঘোষণা করতেন পুলিশ আধিকারিকেরা। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে ভিড়ের মধ্যে ড্রোন পাঠিয়ে নজরদারি চালাবে পুলিশ। এছাড়াও জমায়েত সরানোর জন্য করতে পারবে ঘোষণাও। ওয়াকিটকির মাধ্যমে বার্তা পাঠাবেন পুলিশ আধিকারিকেরা। ড্রোনের মাধ্যমে বার্তা পাবে সাধারণ মানুষজন যা নিঃসন্দেহে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন কিছু হাইটেক পর্যবেক্ষকরা।