জাতীয়তাবাদের বিতর্কে ঢাকা পড়ছে মূল্যবৃদ্ধি-শিক্ষা-বেকারত্ব?:১৯৪৭-২০৪৭-র অনেক কথা,আজকের ভারত নিয়ে নীরবতা কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত: ‘বন্দে মাতরম’-এর দুই স্তবক না চার স্তবক গাওয়া হবে—এই বিতর্ক সাধারণ মানুষের জীবনের মূল সমস্যা নয় বলেই মত বিরোধীদের একাংশের। তাঁদের প্রশ্ন, যে দেশে এখনও কোটি কোটি মানুষ বিনামূল্যের খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল, যেখানে পড়ুয়াদের উন্নত স্কুল, স্বচ্ছ পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করতে হয়, সেখানে এই বিতর্কের অগ্রাধিকার কতটা?
বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মুখে পড়েই বিজেপি ফের জাতীয়তাবাদ, হিন্দু-মুসলমান এবং ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গ সামনে আনছে। অথচ আলোচনা হওয়া উচিত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি দিল্লির একটি ঘটনাকে সামনে এনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সমালোচকদের বক্তব্য, ১৯৪৭-এর অতীত কিংবা ২০৪৭-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যত আলোচনা হয়, বর্তমানের সমস্যা ততটাই আড়ালে থেকে যায়। পেট্রলের দাম,টাকার মূল্য, আমদানি-রপ্তানির পরিস্থিতি কিংবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাপ—এসবই এখন বেশি জরুরি। কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, স্কুলের পরিকাঠামো এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতাই মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই প্রশ্ন—রাজনীতি কি প্রতীকী বিতর্কে আটকে থাকবে, নাকি বর্তমানের বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনবে?
