ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রেন চালানোর দাবি বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর
নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:রমজান মাসের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। একমাস রোজা রাখার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন এই উৎসবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হন এবং আনন্দে মেতে ওঠেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা,বিশেষত উত্তরবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, দিনাজপুর,কোচবিহার এবং বীরভূম থেকে বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহর গুলিতে কাজ করতে আসেন। ঈদ উপলক্ষে তারা সবাই ঘরে ফেরার চেষ্টা করেন, ফলে ট্রেন ও বাসে প্রচণ্ড ভিড় হয়। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের আগের দিনগুলোতে বিশেষ ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
এদিন শিয়ালদহ রেলওয়ে ডিভিশনের দপ্তরে পূর্ব রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি নিজে শিয়ালদহ শাখার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের (DRM) কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন, যেখানে তিনি ঈদের আগে কয়েকদিন শিয়ালদহ থেকে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গগামী বিশেষ ট্রেন চালানোর অনুরোধ জানান।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ
প্রতি বছর ঈদ উৎসবের সময় কলকাতা এবং হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন ও বাসে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বহু মানুষ টিকিট না পেয়ে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করেন বা ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বা ছাদে বসে যাতায়াত করেন। অনেক সময় দেখা যায়, স্বাভাবিক যাত্রীদের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি যাত্রী ট্রেনের কামরায় ওঠার চেষ্টা করেন, যার ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এ বছরও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সমস্যার সমাধানে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী রেলের কাছে কয়েকটি স্পেশাল ট্রেন চালানোর দাবি তুলেছেন। তিনি জানান, “প্রতি বছর এই সময় প্রচণ্ড ভিড় হয়। সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য আমি পূর্ব রেলের শিয়ালদহ শাখার DRM-এর সঙ্গে দেখা করেছি এবং অনুরোধ করেছি যেন ঈদের কয়েকদিন আগে বিশেষ ট্রেন চালানো হয়। আশা করছি, রেল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।”
রেলের প্রতিক্রিয়া
বিধায়কের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রেলওয়ে সূত্রের খবর, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে বিশেষ ট্রেন চালানোর বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে কতটি ট্রেন চালানো হবে এবং কোন কোন রুটে চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে এক রেল কর্মকর্তা জানান, “প্রতি বছর উৎসবের সময় আমরা বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করি। এ বছরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বহু পরিযায়ী শ্রমিক এবং সাধারণ যাত্রী মনে করছেন, এই বিশেষ ট্রেন চালু হলে তাদের ভ্রমণের সমস্যা অনেকটাই কমবে।
মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় কাজ করতে আসা এক শ্রমিক জানান, “ঈদের আগে বাড়ি ফিরতে চাই, কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যদি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়, তাহলে আমাদের খুব সুবিধা হবে।”
অনেকেই মনে করছেন, বিধায়কের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ঈদের সময় ঘরে ফেরার যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে। এখন দেখার বিষয়, রেল কত দ্রুত এবং কী পরিমাণ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করতে পারে।