NewsPolitics

বঙ্গের বকেয়া টাকা  মেটানোর জন্য সুপারিশ সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বারংবার সেই টাকা পাঠানোর জন্য রাজ্য সরকার আবেদন জানালেও সম্পূর্ণ আবেদন খারিজ করে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার! এমনটাই অভিযোগ নবান্নর। রীতিমত পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যার ফলে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের শীর্ষনেতারা বারবার দাবি করে আসছে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে তার প্রাপ্য বরাদ্দ অর্থ দেয়নি, যা রাজ্যের উন্নয়ন এবং বিশেষত গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার সেই অভিযোগ খণ্ডাতে চলেছে রাজ্য সরকার। মিলতে চলেছে বরাদ্দ টাকা।

বাংলায় আবাস যোজনা থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের বরাদ্দ টাকা নিতে বেশ সমস্যায় পড়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের কাছে বারংবার আবেদন করেও কোনো লাভ না হওয়ায় শেষে রাজ্যের ভান্ডারের থেকেই খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। তবে

১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ার কারণে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম রীতিমত থমকে গেছে। ফলে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেমন কুপ্রভাব পড়েছে ঠিক তেমনি রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিলের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার সেই সমস্যা নির্মূল হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কেন্দ্রের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করল সংসদের গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ১০০ দিনের কাজের পাশাপাশি অন্য সকল বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। তবে, কিছু অর্থবর্ষ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই সেই বছরগুলির অর্থ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে কিছু সময়সীমা থাকতে পারে। কিন্তু যেসব অর্থবর্ষের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়নি, তা অবিলম্বে পরিশোধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার আগে শাসকদল কেন্দ্রের প্রতি এক অভিযোগের প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দিয়েছিলেন। যেখানে তারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দাবি করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গকে তার প্রাপ্য বরাদ্দ অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। এবং এও বলা হয় যে বকেয়া অর্থ না দেওয়ার কারণে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে এবং রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়েছে।

যদিও এই প্রক্রিয়া কতটা সফলতা অর্জন করবে তা নিয়ে সকলেই ধন্দের মধ্যে রয়েছে। কারণ এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার রাজ্যের অভিযোগ অগ্রাহ্য করেছে এবং বকেয়া অর্থের বিষয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। কিন্তু তবুও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পর কেন্দ্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং রাজ্যের বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর এটি সফল হলে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *