NewsPolitics

ভুয়ো ভোটার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত: ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নতুন বিতর্কে এবার মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশন।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে,ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং বিজেপির প্রত্যক্ষ মদতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এই কাজে সহযোগিতা করছে। এই ইস্যুকে ঘিরে সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ! অভিযোগ,নির্বাচন কমিশনের তরফে ‘ভুল’ করা হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ভুলের দায় স্বীকার না করলে আরও প্রমাণ সামনে আনা হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভূতুড়ে ভোটারের বিষয়টিকে বড় হাতিয়ার হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল ।

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি এবং তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ

রবিবার নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, একাধিক রাজ্যে একই এপিক (EPIC) নম্বরযুক্ত ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। তবে তারা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র একই এপিক নম্বর থাকার কারণে কোনও ভোটার কার্ডকে ভুয়ো বলা যাবে না। এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল নেতৃত্ব সোমবার কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

ডেরেক ও’ব্রায়েন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিজের ভুল স্বীকার করেছে। একাধিক রাজ্যে একই এপিক নম্বর থাকা ভোটার কার্ডের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। কমিশনের উচিত অবিলম্বে এর দায় স্বীকার করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখানো যে, কীভাবে এই অনিয়ম ঘটেছে।”

তৃণমূলের দাবি, বিজেপির চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে। রাজ্যজুড়ে এই ইস্যুতে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হতে বলা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য জাতীয় স্তরেও প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের হাতে থাকা প্রমাণ ও নতুন রাজনৈতিক কৌশল

সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ভোটার আইডি কার্ডের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায়, একই এপিক নম্বর লেখা একাধিক কার্ড একাধিক রাজ্যে রয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল বোঝাতে চেয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কেন্দ্রীয় কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তৃণমূলের কৌশল স্পষ্ট—বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে, জাতীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। রাজ্যজুড়ে এই ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে বাংলার শাসকদল।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের এই দাবির বিরুদ্ধে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন এখন চাপের মুখে, কারণ তারা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছে যে, একই এপিক নম্বরের একাধিক ভোটার কার্ড রয়েছে। এই অবস্থায় কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

 

তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে বিরোধীরা ভোটের আগে রাজনৈতিক চাল বলে ব্যাখ্যা করছে। বিজেপির মতে, “তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের সুবিধা আদায় করতে চাইছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের যুক্তি, “বিজেপির মদতে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় গড়মিল করছে।”

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই বিতর্কের পর তৃণমূল যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে তারা এই ইস্যুকে সামনে রেখে বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। নির্বাচন কমিশন যদি দ্রুত এর সমাধান না করে, তাহলে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।এখন দেখার বিষয়,কমিশন কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং বিজেপি ও তৃণমূলের এই দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়।

Share with

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *