বিজেপির কর্মসূচিতে নেই অভিজিৎ, তাহলে কি দলের সঙ্গে ‘মন কষাকষি’?
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিজেপির কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি ঘিরে অসন্তোষের জল্পনা। সিবিআই-ইডির তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ এবং সাংসদ পদ ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা বাড়লেও,বিজেপির দাবি শারীরিক অসুস্থতাই কারণ।

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের তমলুক কেন্দ্রের লোকসভার সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অসন্তোষ বাড়ছে বলে দলের অন্দরের খবর। দলের একাধিক অনুষ্ঠানে এখন অনুপস্থিত থাকেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণ হলো যে তার বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা যেসব ঘটনায় সরাসরি যুক্ত, সেসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই বা ইডি কাজের কাজ কোন তদন্তই করছে না।
অন্যদিকে নানা গ্যালারি শো হচ্ছে এবং তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাসঙ্গিক করে তুলে রাখার চেষ্টা চলছে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এর মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাত দেখছেন। এ নিয়ে তিনি তার ঘনিষ্ঠ মহলে বারবার অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন।
আরজিকর কাণ্ডে যে কাজের কাজ কিছু হবে না তা নিয়েও অনেকটাই নিশ্চিত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একইভাবে তিনি মনে করেন যে শিক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল আমলে যে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছিল, তা নিয়ে সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে না সিবিআই বা ইডি। মূল মাথাকে এখনো তারা ধরার রাস্তায় যাচ্ছে না। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই এই তদন্ত কার্যত শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অসন্তোষের খবর বিজেপির বঙ্গ নেতারা পেয়েছেন। তাদের শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কোন কর্মসূচিতেই দেখা যাচ্ছে না।
হতাশা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত লোকসভার সাংসদ পদ ত্যাগ করতে পারেন এমন জল্পনাও তুঙ্গে। যদিও এ নিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে কোন খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এ নিয়ে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তার পেছনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে তাকে সামনের সারিতে দেখা যায়নি। আগামী দিনে আবার তিনি নতুন উদ্যোগে, উদ্যমে বিজেপির নানা কর্মসূচিতে হাজির থাকবেন।
