তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগে উদ্বিগ্ন দিল্লি,শমীকের নেতৃত্বে প্রশ্ন,বঙ্গ বিজেপিতে তরুণ ‘কঠোর’ মুখ আনার তোড়জোড়?

দিলীপ চট্টোপাধ্যায়, মানুষের মতামত:
ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পরবর্তী রাজনীতিতে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং অসন্তুষ্ট। বিজেপির একাধিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এমনকি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া ও প্রকারান্তরে হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এইসব ঘটনা দিল্লির ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের কানেও গেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল,কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব প্রমুখরা প্রাথমিকভাবে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা দলে ‘নাম্বার টু’ হিসেবে পরিচিত অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সেরেছেন বলে খবর। রাজনৈতিক মহল মনে করছেন যে শমীক ভট্টাচার্য এখন দিল্লিতে যেতে বেশি উৎসাহী। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে চাইছেন।
অন্যদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ মনে করছেন যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্য দলের সভাপতি হিসেবে যে কঠোর অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা নিতে ব্যর্থ। অতীতে দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারদের আমলে রাজ্য বিজেপির যে পরিস্থিতি ছিল, এখন শমীক ভট্টাচার্য তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। দলের মধ্যে পরিবর্তনেরও দাবি উঠতে শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বঙ্গ বিজেপির ঘটনাবলীতে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট এবং উদ্বিগ্ন। তারা শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে এনে রাজ্য সভাপতি পদে কড়া প্রকৃতির কোনো তরুণকে বসাতে চাইছেন,যিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলকে পুনরায় শক্ত হাতে পরিচালনা করতে পারবেন।
