সোমবার, অক্টোবর 26, 2026
00:15:44 | কলকাতা
সর্বশেষ সংবাদ

ঋতব্রত-সন্দীপন শুধু মুখ?তৃণমূলে ভাঙনের নেপথ্যে ‘মেন্টর’কে ?

নিজস্ব প্রতিবেদক,মানুষের মতামত:তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই দলীয় কোন্দল,বিদ্রোহ এবং নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার নজির রয়েছে। ২০০১ সালের কলকাতা পুরভোটের আগে চিনু হাজরার নেতৃত্বে গঠিত ‘তৃণমূল বাঁচাও কমিটি’ ছিল সেই অসন্তোষের প্রথম বড় প্রকাশ। টিকিট বঞ্চনা,গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ তখনই সামনে এসেছিল।

পরবর্তী সময়ে দেবাশীষ কুমার,মালা রায় কিংবা পরেশ পালের মতো নেতারা বিভিন্ন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সাফল্যও পেয়েছেন। তবে অজিত পাঁজা,সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর বিরোধী শিবিরে বসা তৃণমূল আজ নতুন এক সংকটের মুখে। সম্প্রতি দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দেড়শোর বেশি পুর প্রতিনিধির পদত্যাগ দলীয় অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এই বিক্ষুব্ধ শিবিরের পিছনে রয়েছেন এক প্রভাবশালী ‘মেন্টর’। না হলে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনের অনুপস্থিতি অভাবনীয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রশ্নেও অঙ্কের রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৩০ জন বিধায়ক একজোট হলে আলাদা ব্লক গঠন করে বিধানসভায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

দুই দশক আগে তৃণমূলের সংকট ছিল সংগঠনের বিস্তার নিয়ে। আজকের সংকট ক্ষমতা হারানোর পর দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু বিদ্রোহ দমন নয়, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাও।রাজনীতিতে শেষ কথা বলে সংখ্যা নয়, পরিস্থিতি। আর তৃণমূলের ইতিহাস বলছে—এই দলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

Share with

আরো পড়ুন -

নতুন সপ্তাহ,নতুন খবর - ‘মানুষের মতামত’

News paper

e-Paper পড়ুন