বাংলাদেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা মমতার
দিলীপ চট্টোপাধ্যায় মানুষের মতামত: এবার ব্রিটেনের এক সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই বক্তৃতায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুজিব-কন্যা। সে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন ইস্যুতে মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। “ঘরে শান্তিতে ঘুমানোর উপায় নেই। চুরি, ডাকাতি হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন অরাজকতা চলছে। এই অন্ধকার কেটে যাবে। নতুন সূর্য উঠবে।” ভার্চুয়াল মাধ্যমে এমনই বলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আওয়ামী লিগের গণ সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিনার এই বক্তৃতা পোস্ট করেছে। এদিকে, এবার বঙ্গ বি জে পি-র সমালোচনা আর এস এস মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’য়। ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিতে মুখের বড়ই অভাব’, কার্যত এমনই
সমালোচনা উঠে এসেছে আরএসএস মুখপত্রে। গত কয়েক বছর ধরে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়াইয়ে বিজেপি। তবুও গত একাধিক নির্বাচনে তেমন সফলতা আসেনি। একের পর এক ভোট বৈতরণী সফলতার সঙ্গেই পেরিয়েছে জোড়াফুল। গত কয়েকটি বিধানসভা, লোকসভা নির্বাচন এমনকী উপনির্বাচনেও গোহারা হেরেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার নেতৃত্বাধীন বঙ্গ বিজেপির কর্মকাণ্ডকে মোটেই ভালোভাবে দেখছে না আর এস এস । রাজ্যে প্রধান বিরোধী দলের জায়গা ছিনিয়ে নিতে পারলেও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপি নিজেদের তৈরি করে উঠতে পারেনি, বলে এমনও সমালোচনা আরএসএস মুখপত্রে।
আজ প.বঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে ফের এল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী আরও এক বার স্পষ্ট করলেন, পড়শি দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তাঁর সংযোজন, “দাঙ্গা হিন্দু করে না। দাঙ্গা মুসলমান করে না। দাঙ্গা করে কিছু সমাজবিরোধী।”
অনেকের মত, বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে রাজ্য বিজেপি হিন্দুত্বের রাজনীতিতে শান দেওয়ার চেষ্টা করছে। ওই অংশটির দাবি, রাজ্য বিজেপির সেই কৌশলকে ভোঁতা করে দিতেই বাংলাদেশ নিয়ে ‘কৌশলী’ অবস্থান নিচ্ছেন মমতা। সম্প্রতি বিধানসভায় দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিসেনা পাঠানোর জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে ‘অসন্তুষ্ট’ বাংলাদেশও।
সোমবার দুপুর বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে উঠে মমতা বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে হামলা হচ্ছে, তা দুঃখজনক।” তার পরেই সব বিধায়কের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, “কেউ উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেবেন না।”
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘একটি রাজনৈতিক দলের’ কথা। তাঁর অভিযোগ, “একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ফেক (ভুয়ো) ভিডিয়ো ছড়ানো হচ্ছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “যাঁরা ভাবছেন এই সুযোগে রাজনৈতিক লাভ আছে, তাঁরা জানবেন আপনাদের ক্ষতি হবে।” তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম করেননি।
বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর দল এবং সরকারের পুরনো অবস্থানের কথা ফের স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাপারটা কেন্দ্রীয় সরকার দেখবে। আমরা কোনও পক্ষে নেই। আমরা সব পক্ষে। আজ বিদেশসচিব (বাংলাদেশে) যাচ্ছেন। দেখা যাক কী হয়। আমাদের নীতি হল আমরা বিদেশনীতি মেনে চলব।”
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী যখন বিধানসভায় ঢুকছেন, তখন সেখানে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বক্তব্যের সময় বিধানসভায় ছিলেন না তিনি।