করাচি থেকে দুবাই, তারপর ভারত—ঘুরপথের বড়সড় কারসাজি ফাঁস DRI-র
‘অপারেশন ডিপ ম্যানিফেস্ট’-এ বড়সড় সাফল্য রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতরের। নাসিকে আটক ১৩টি কন্টেনার থেকে উদ্ধার ৩৬২ মেট্রিক টনের বেশি পাকিস্তানি শুকনো খেজুর। তৃতীয় দেশ হয়ে ভারতে পণ্য ঢোকানোর চেষ্টার অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টার,মানুষের মতামত:পাকিস্তান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভারতে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা রুখে বড়সড় সাফল্য পেল রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতর। ‘অপারেশন ডিপ ম্যানিফেস্ট’-র আওতায় ৩৬২ মেট্রিক টনেরও বেশি পাকিস্তানি শুকনো খেজুর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাসিকের আমদানি পণ্য সংরক্ষণ কেন্দ্রে মুম্বইয়ের একটি সংস্থার আমদানি করা শুকনো খেজুরভর্তি ১৩টি পণ্যবাহী কন্টেনার আটক করেন রাজস্ব গোয়েন্দা আধিকারিকরা।
পণ্যগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জেবেল আলি বন্দর থেকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। আমদানি সংক্রান্ত নথিতে পণ্যগুলির উৎপত্তিস্থল হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে দেখানো হয়।তবে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, শুকনো খেজুরগুলি প্রথমে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জেবেল আলি বন্দরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পণ্যগুলি কেবল অন্য কন্টেনারে স্থানান্তর করে অন্য একটি জাহাজে তোলা হয়। এরপর সেগুলি ভারতে পাঠানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি পণ্যের আসল উৎস গোপন করতেই তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এই ঘুরপথের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাকিস্তানি নাগরিকদের পরিচালিত কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমেও এই প্রক্রিয়া চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৫ সালের ২ মে থেকে পাকিস্তান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভারতে পণ্য আমদানি ও পরিবহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কেন্দ্র। সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানি পণ্য ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা রুখতেই ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতর।
এই ঘটনায় পণ্যের উৎস গোপন, নথিতে ভুল তথ্য প্রদান এবং তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতরের এই অভিযান নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
