শীত অধিবেশনে তিন ‘মেগা বিল’,‘ম্যাজিক ফিগার’ পেতে পওয়ার–স্টালিনের দরজায় বিজেপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত: লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে যাতে ‘এক দেশ এক ভোট’, মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানো যায়, তার জন্য গোপনে এখনো সক্রিয় হয়ে রয়েছেন বিজেপি নম্বর টু তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
জানা গেছে, বিভিন্ন স্তরে বিজেপির নেতারা এনসিপির প্রবীণ নেতা শরদ পওয়ার ও ডিএমকের সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর অনুযায়ী, এনসিপি ও ডিএমকে নেতাদের বিজেপির পক্ষ থেকে এনডিএ জোটে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি ডিএমকে এবং এনসিপি থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সদস্য পদ দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এনসিপি নেতা শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
শরদ পওয়ার নীতিগতভাবে জোটে যোগ না দিলেও, সংবিধান সংশোধনী বিলে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু ডিএমকে মাঝপথে বেঁকে বসায় বর্ষাকালীন অধিবেশনে রাতারাতি তৎপরতা বন্ধ করতে বাধ্য হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। পরবর্তীতে পুনরায় ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু করার চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ডিএমকে নেতা স্টালিনের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তাব দিয়েছেন যে ডিএমকে সরাসরি এনডিএ জোটে শরিক হোক। বিজেপির পক্ষ থেকে ডিএমকে-কে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে সব রাজ্যেই ৫০ শতাংশ বিধানসভা কেন্দ্র বাড়ানো হবে এবং বর্ধিত কেন্দ্রগুলোকে মহিলা সংরক্ষণের আওতায় আনা হবে। তামিলনাড়ু তথা সমগ্র দক্ষিণ ভারতে মোট আসন সংখ্যা কমবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন অমিত শাহ।
অন্যদিকে, কংগ্রেস যেকোনো মূল্যে বিজেপির এই সংবিধান সংশোধনী বিলগুলো আটকাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। বিরোধী নেতৃত্বের মতে, হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বিজেপি আগামী নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। তাদের ধারণা, হিন্দি হার্টল্যান্ডে আসন বাড়াতে না পারলে বিজেপির পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা বা সরকার গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
