‘পেটের ভাত থেকে মনের স্বাধীনতা—সবেতেই হামলা’,বর্ধিত অধিবেশন থেকে সেলিমের তোপ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানুষের মতামত:শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা নয়, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের আন্দোলনের অভিমুখ নির্ধারণই সিপিআই(এম)-এর বর্ধিত অধিবেশনের প্রধান লক্ষ্য—এমনটাই জানালেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
তিনি বলেন, সিপিআই(এম)-এর সম্মেলন প্রতি তিন বছর অন্তর হয়। ২০১৫ সালের পার্টি প্লেনাম এবং পরবর্তী রাজ্য সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কতটা কার্যকর হয়েছে, তার পর্যালোচনা চলছে। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর বর্ধিত অধিবেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি।
বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জীবন-জীবিকা, সংবাদমাধ্যম এবং সংস্কৃতির উপর একযোগে আক্রমণ নামিয়ে আনার অভিযোগ করেন সেলিম। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধীদের আক্রমণ এবং মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। হকার, ফুটপাতবাসী, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষদের উচ্ছেদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
নিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়েও সরকারকে নিশানা করেন সেলিম। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ, শিল্প ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উৎসবের মরসুমে চিনির দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, আগে কোন সংবাদপত্র গ্রন্থাগারে থাকবে তা ঠিক করা হতো, আর এখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনাকেও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে সেলিমের কটাক্ষ, “মানুষের উদর, হৃদয় ও মস্তিষ্কে তালা লাগানোর চেষ্টা চলছে।” বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাঙালির আমিষ-নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ, চৈতন্যদেব ও সুফিবাদের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে সেলিমের প্রশ্ন—বাংলার মানুষ উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছিলেন, নাকি তাঁদের ধর্মাচরণ ও খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণের জন্য?
